তোমরা যারা ঈদে মিলাদুন্নবী কর.....!

মাসটা রবিউল আওয়াল তারউপর শীত। দেশী ধর্ম ব্যবসায়ীদের জন্য এটা বাৎসরিক ধান্ধার মওসুম।
উপরের কথাটা এখন হরহামেশা শুনবেন।
কথা সত্য তবে মতলব খারাপ।
মীলাদুন্নবী অর্থ নবী সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম।তাঁর জন্মকে যারা অস্বীকার করবে তারাতো কাফেরই।
চট্টগ্রামে একটা কথা আছে "মেজবান খাইতে গেছি।মেজবান বলা হয় যিনি দাওয়াত দিছেন।কথাটার অর্থ হয় দাওয়াত দাতাকে খাইতে গেছি!যদিও শাব্দিক অর্থে কথাটা ভুল কিন্তু উদ্দেশ্য খেয়াল করলে কথাটায় কোন সমস্যা নাই।
মেজবান খাইতে গেছি কথাটার উদ্দেশ্য থাকে মেজবান যে খানার আয়োজন করছেন তা খাইতে গেছি।সবাই গূড় অর্থটা জানেন তাই দোষ ধরেন না।
মীলাদুন্নবির শাব্দিক অর্থ যদিও নবী সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন।কিন্তু রবিউল আওয়াল মাসের বিশেষ দিনে পৃথিবীর কিছু নির্দিষ্ট দেশে মিলাদুন্নবী নামক যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তা নবীর জন্ম শব্দের সাথে সম্পর্ক রাখেনা।তাই কেউ যদি বলে বা কারো বলার উদ্দেশ্য এটা হয়,রবিউল আওয়াল মাসে মিলাদুন্নবী নামক ইসলাম বহির্ভূত,মনগড়া যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আমি তা মানিনা।তাহলে তাকে কাফের বলা যাবেনা।কেউ যদি মূল উদ্দেশ্যকে লুকিয়ে শুধুমাত্র শাব্দিক অর্থকে ব্যবহার করে কাউকে কাফের ফতোয়া দেন তবে ফতোয়াদাতাই কাফের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।কারণ হুজুর সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন কোন মুসলমান অপর মুসলমানকে কাফের বললে তাদের যেকোন একজন কাফের হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে মিলাদুন্নবি মানে রবিউল আওয়াল মাসের বিশেষায়িত এক অনুষ্ঠান যেটার নমুনা না স্বয়ং হুজুর সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আছে,না খুলাফায়ে রাশেদার যুগে আছে।আর না কোন ইমামের যুগে আছে।তাই ৬০০ হিজরিতে আবিষ্কৃত অনৈসলামিক অনুষ্ঠান মিলাদুন্নবি মানিনার কারণে কাউকে কাফির বললে,ফতোয়া দাতাই কাফিরের যোগ্য বেশি।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মিলাদুন্নবি নামক অনুষ্ঠান না মানার কারণ এটা ইসলামের প্রাথমিক বা তার পরের যুগে পালিত হয়েছে,এরকম কোন প্রমাণ নাই।বরং হিজরি সন চালুর ৬০০ বছর পরে এক অজনপ্রিয় শাসক মুজাফফর উদ্দীন কওকরি তার দরবারি আলেম দিহইয়া কালবির পরামর্শে জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারের জন্য মিলাদুন্নবি অনুষ্ঠান চালু করে।এজন্য আজ বাংলায়ও হাসিনা-খালেদা ইসলামের আইন বাস্তবায়নে উদ্যোগী না হলেও জশনে-জুলুস পালনে ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেয়।
কট্টর নাস্তিকবাদী হাসিনাও মিলাদুন্নবিকে তার ইসলাম বিরোধী মানসিকতা লুকাতে ব্যবহার করে।ইনু-আসিফ মহিউদ্দিন-জাফর ইকবালরাও এমন আমল বিহীন অনুষ্ঠান খুবই পছন্দ করে।থাবা বাবার মত নাস্তিক ঈদ-কুরবানি থেকে নিয়ে ইসলামের সব অনুষ্ঠান নিয়ে কটাক্ষ করলেও কথিত সকল ঈদের সেরা ঈদ মিলাদুন্নবি নামক অনুষ্ঠান নিয়ে কিছুই বলেনি।
কারণ এই অনুষ্ঠানের দ্বারা ইসলামের কোন লাভ হচ্ছেনা।২ ঈদে নামাজের নিয়ম থাকলেও সেরা ঈদে নামাজের কোন অন্তর্ভুক্তি নাই।শুধু রঙ-চঙে কাপড় পড়ে রাস্তায় ঘুরে গান-বাদ্যর মাধ্যমেই এই অনুষ্ঠান পালন হয়ে যায়।যারা এই মিছিলে শরীক হয় তাদের নামাজের কোন ব্যবস্থা বা ঠিকানা কিংবা পড়ারও কোন ইচ্ছা দেখা যায়না।বাইকে চড়ে,মোড়ে-মোড়ে শরবত খেয়ে দিনভর মাস্তির মাধ্যমেই এই দিবস পালন করা যায়।
যার কারণে নাস্তিক-বিধর্মীদেরও প্রিয় অনুষ্ঠান ঈদে মিলাদুন্নবি!মুসলমান এরকম আমলহীন,মাস্তিভরা অনুষ্ঠানেই ইসলাম খুজুক-পালন করুক এটাই নাস্তিক-বিধর্মীদের চাওয়া।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
হুজুর পাক সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দ্বীনের প্রতিটি স্তর শিক্ষা দিয়ে গেছেন।তাঁর প্রতি সম্মান কিভাবে জানানো হবে এই আদবও বলে গিয়েছেন।উনার পরিবারের সাথে কিরুপ আচরণ করতে হবে,এ নির্দেশনাও আল্লাহ্ কুরআনে বলেছেন।২ ঈদে আমরা কখন উঠব,কেমন জামা পরব।গরু কিভাবে জবাই করব,মাংস কিরুপে বিতরণ হবে সব নির্দেশনা আছে।
কিন্তু সকল ঈদের সেরা ঈদ কিভাবে শুরু হবে,মানুষ কিরুপে অংশগ্রহণ করবে।তাদের জামা-কাপড় কিরকম হবে।জুলুসে কে নেতৃত্ব দেবে কোন নির্দেশনা নাই।
এটা কেমন ঈদ?
হুজুর সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম মিলাদুন্নবি দিবসের কথা বলেছেন বা সাহাবাদের নিয়ে মিছিল করেছেন বা করতে বলেছেন কিংবা উনার ইন্তেকালের পরে সাহাবারা এরকম জুলুস করেছেন,এরকম কোন প্রমাণ নাই।
এ অনুষ্ঠান নবী সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের না,উনি করেননি।
সাহাবাদের না,উনারাও করেননি।
আমরা যারা মাযহাব মানি।কোন ঈমামের বইয়েও এ সম্পর্কিত কোন মাসআলা নাই।
অর্থাৎ এ উৎসব কোন ইমামেরও না।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
বিদআ'তিরা কিছু হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলে হযরত আবু বকর বা উসমান রদিয়াল্লহু তাআ'লা আনহ বলেছেন যারা মিলাদুন্নবিতে এক পয়সা খরচ করবে....
উত্তরটা এখানেই!
তারা কোন জইফ হাদিস দূরের কথা একটা জাল হাদিসও বের করতে পারবেনা যেখানে ৪ খলিফার কোন একজন বা কোন সাহাবি ১২ই রবিউল আওয়াল একটা মিছিল বের করেছেন।ওই মিছিলে লক্ষ সাহাবি ব্যানার ফেস্টুন হাতে যোগ দিয়েছেন।বিভিন্ন যানবাহন সাজিয়েছেন।এরকম কোন উদাহরণ তারা দিতে পারবেনা।
হুজুর সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথিবীতে সবচে বেশি মুহাব্বত করেছেন সাহাবারা।কেউ যদি বলে আমি হযরত আবু বকর রদিয়াল্লহু তাআ'লা আনহ এর চাইতে বেশি নবিপ্রেমী তবে সে ভন্ড।
যখন নবী সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন লক্ষাধিক সাহাবা রেখে গিয়েছিলেন।মুসলমানদের ঈমাম ছিলেন জগতের সবচে বড় নবিপ্রেমিক হযরত আবু বকর রদিয়াল্লহু তাআ'লা আনহ।
নবিপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে লক্ষাধিক সাহাবা নিয়ে খলিফাতুল মুসলিমীন ১২ই রবিউল আওয়াল জুলুস-মিছিল বা এ জাতীয় কিছু করেছেন।উনার পরবর্তী ৩ খলিফা করেছেন,এরকম কোন নজির নাই।
বাংলাদেশের কিছু মুসলিম ৮৪ সাল থেকে পাকিস্তান থেকে পীর ভাড়া করে এনে ১২ই রবিউল আওয়াল জশনে জুলুস করে সাহাবাদের চাইতেও বড় প্রেমী বনে গেলেন?
মিলাদুন্নবি অনুষ্ঠান না মানা,পালন না করারা কাফের বলে উনারা কি সাহাবাদের সহ স্বয়ং রসুলুল্লাহকেও অভিযুক্ত করেনি?নাউ'জুবিল্লাহ!
এরা কারা যারা খুলাফায়ে রাশেদার চাইতেও বড় নবিপ্রেমী?
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
বাংলাদেশ সহ উপমহাদেশের অধিকাংশ মুসলিমই হানাফি মাযহাবের অনুসারী।
মিলাদুন্নবি নামক অনুষ্ঠানের বৈধতা যাচাইয়ে আমরা ইমাম আবু হানিফার দিকে তাকালেই সত্য ধরতে পারব।
ইমাম আবু হানিফা মিলাদুন্নবি বিষয়ে কোন ফতোয়া দিয়েছেন,এরকম কোন প্রমাণ নাই।না থাকার কারণ তখন এ রকম কোন অনুষ্ঠানের অস্তিত্বই ছিলনা যার কারণে কোন মুসলমানকে উনার নিকট মিলাদুন্নবির বিষয়ে জিজ্ঞেসই করতে হয়নি।জিজ্ঞেস না করা বা অস্তিত্ব না থাকার কারণে ইমামে আ'জম বা অপর ৩ ইমামকে এ বিষয়ে কিছু লেখার অবকাশই হয়নি।
যারা পালন করে বিরাট কিছু করে ফেলেছেন,যারা করেনা তাদের গালি দিচ্ছেন।তারা নামে হানাফি হলেও বাস্তবে ইমাম আবু হানিফাকেও গালি দিচ্ছেন।তিনিওতো এ ব্যাপারে নীরব!না পালন করেছেন বা করা-না করার ব্যাপারে কোন ফতোয়া দিয়েছেন।
এ উদ্ভট মনগড়া অনুষ্ঠানের মূলে তাদের প্রদত্ত ওই উক্তিটাই "মিলাদুন্নবিতে যে এক পয়সা খরচ করবে....
জী! মিলাদুন্নবি পালনের মূল উদ্দেশ্য টাকা!
এই অনুষ্ঠানের নাম করে পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক চাঁদাবাজি করা হয়।ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় এতে মানুষকে টাকা দিতেই হয়।১২ তারিখের আগে বিভিন্ন সড়কে গাড়ি থামিয়ে মিলাদুন্নবির নামে জোরপূর্বক ড্রাইভারের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া হয়।যাত্রীদেরও বাধ্যতামূলক দিতে হয় টাকা।বিদেশ থেকে পাঠানো হয় প্রচুর টাকা।এই টাকার জন্যই পাকিস্তান থেকে আওলাদে রসুলের নামে ভাড়াতে পীর এনে চাঁদাবাজি করে কিছু টাকা পাকিস্তান পাচার হয়।কিছু টাকা যায় জুলুস সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায়।পাড়া-মহল্লার টাকা যায় বেকার-ছ্যাঁচড়াদের দ্বারা পরিচালিত জুলুস কমটির পকেটে।কেউ হিসাব নেয়না টাকা কত উঠেছে,কত খরচ হয়েছে বা এখন কিরকম টাকা আছে।
অনেকদিন ধরে চলে আসছে মিলাদুন্নবির নামে নিরীহ মুসলমানের পকেট কাটা।
এজন্যই ধান্ধা টিকিয়ে রাখতে ভণ্ডরা ফতোয়া দেয়... সকল ঈদের সেরা ঈদ,ঈদে মিলাদুন্নবী!
১২ই রবিউল আওয়াল জশনে-জুলুস ফরয! যারা মিলাদুন্নবি,জশনে-জুলুস মানেনা তারা কাফের! ----নিজাম বাই থ্রীজি
যারা নবীর সুন্নাতকে আর্দশের মাপকাঠি না বানিয়ে মনগড়াভাবে ধর্ম পালন
করে,এরা যদি দাবী করে আমরা আহলে সুন্নাত,.তারা সত্যিকারের আহলে সুন্নাত না ধোকাবাজের আহলে সুন্নাহ?
তাদের একটি ধোকাবাজি হচ্ছে মিলাদুন্নবী । হাদীস শরীফে আছে ,আল্লাহর রাসূল সাঃ প্রতি সপ্তাহের
সোমবারে রোযা রাখতেন । সাহাবায়ে কিরাম
জিজ্ঞেসকরলেন ,আপনি প্রতি সপ্তাহের সোমবারে নফল রোযা রাখেন কেন ? রাসুল
সাঃ বললেন,দুই কারনে এক ,,আমার কাছে সর্বপ্রথম যেদিন ওহী নাজিল
হয়েছিল সেদিন ছিল সোমবার ।তাই আমি সপ্তাহের সোমবারে নফল রোযা রেখে আল্লাহর
শুকরিয়া আদায় করি । দুই ,,আমি যেদিন জন্মগ্রহন করেছিলাম,সেদিন ছিল
সোমবার ।তাই আমি এদিন নফল রোযা জন্মের শুকরিয়া আদায় করি ।এ হাদিসটি মুসলিম শরীফের
হাদিস । সহীহ মুসলিম শরীফের হাদিসে রাসুল সাঃ জন্ম উপলহ্মে রোযা রাখতেন । নবীর জন্মকে আরবী ভাষায় বলে,মীলাদুন্নবী । বাংলা ভাষায় নবীর জন্ম ।
মীলাদুন্নবী উপলহ্মে নবী কি করতেন? রোযা রাখতেন ।আর ওরা মিলাদুন্নবী উপলহ্মে করে ঈদ ।
মিলাদুন্নবী উপলহ্মেনবী রোযা রাখতেন আর ওরা করে ঈদ ।এর নাম কি নবীর তরীকা না মনগড়া তরিকা? মনগড়া তরিকা ।কাজ করে মনগড়া তরিকায় আর দাবী করে আহলে সুন্নাত ,.এরা কি আহলে সুন্নাত নাধোকাবাজ ?ধোকাবাজ । মিলাদুন্নবী উপলহ্মে নবী কোন আমল
করেছেন কি? আমলটার নাম ঈদ না রোযা ?রোযা । এরা নবীর মুহাব্বত দেখায় ।
আমি আপনাদেরকে জিজ্ঞেস করি একজন আরেকজনকে আন্তরিকভাবে মুহাব্বত
করলে ঢাক ঢোল পেটায় ,না কাজে কর্মে প্রমান দেয়? কাজে কর্মে প্রমান দেয় ।আর যার কাজ
করেনা মুখের দ্বারা ঢাকঢোল পেটায় ? একটা মেয়ের জন্য তার স্বামীকে মুহাব্বতের
প্রয়োজন হয় ?না স্বামীর কথা পালনের মাধ্যম হয় ?যে নারী তার স্বামীর কথা মানে সেই নারীর
প্রচার করতে হয়না ,আমি আমার স্বামীকে ভালবাসি।ঠিক তেমনিভাবে যে উম্মত
নবীকে মুহব্বত করে তাদের বলতে হয়না ,আমি নবীকে মহব্বত করি ,আমি নবীকে মহব্বত
করি বরং এটা নবীর তরিকা পালনের মাধ্যমে প্রমানিত হয় । যে নারী স্বামীকে মুহাব্বত করেনা সেই
নারী মুখে মুখে প্রচার করে কেন ?এই প্রচার বাস্তব না বরং ধোকা ।তেমনিভাবে যে উম্মত
নবীর তরিকা পালন করেনা আর প্রচার করে নবীকে মুহাব্বত করি ,.এটাও ধোকা ।
ওরা সত্যিকারের আহলে সুন্নাত নাকি আহলে সুন্নাত নামে ধোকাঁবাজ ।ধোকাবাজ ।।
মিলাদুনব্বীতে ওরা করে ঈদ । নবী পালন করতেন রোযা আর ওরা করে ঈদ ।এর
মাঝে কতগুলো রহস্য আছে ? এরমাঝে একটা হল ,রোযা হয় না খেয়ে আর ঈদ হয়
মিষ্টি খাওয়ার ধুমধাম করে । ওরা না খেয়ে মুহাব্বতে নেই ,মিষ্টি খেয়ে মুহাব্বতে আচে ।
কাজেই ওদের মুহাব্বতেআর খাটি মুহাব্বতে ব্যবধান আছে । ওরা যদি দাবি করে আমরা সত্যিকারের
আহলে সুন্নাত ,তাহলে আহলে সুন্নাত নামের ধুকাবাজ । আরেকটা রহস্য নবী মিলাদুন্নবী উপলহ্মে রোযা রাখতেন বছরে একদিন?শুধু ১২ই রবিউল আওয়ালে ? নাকি প্রতি সোমবারে ।নবী যেই আমল করেছেন ,সেই আমল করতে হলে বছরে ৫২দিন উপোস থাকতে হয় । এই মুহাব্বতে ওরা নেই ।এর বিপরীতে বছরে একবার ১২ই রবিউল আওয়ালে মিষ্টি খাওয়ার, ধুমধাম করা যায় ।এরা কষ্টের মুহাব্বতে না মিষ্টির মুহাব্বতে ?ওরারোযার মুহাব্বতে না ঈদের মুহাব্বতে?এরা না খাওয়ার মুহব্বতে না খাওয়ার
মুহব্বতে ?এই হচ্ছে ওদের মুহব্বতের আসল পরিচয়। নবী কোন পথে আর এরা কোন পথে ?
এরপর ও ওরা আশেকে রাসূল !আশেকে রাসূল নামে ধোকাবাজ।। -----Hilful Fujul
এক শ্রেণীর মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলো দুইটা।
১। ঈদে মিলাদুন্নবী ২। ওরশ
ঈদে মিলাদুন্নবী নাকি সৃষ্টি কুলের শ্রেষ্ট ঈদ তাই আল্লাহ প্রদত্ত দুই ঈদ (ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আজহ) তাদের কাছে কোন ঈদই না। তৃতীয় ফেক ঈদ নিয়া তাদের মাতামাতির কোন শেষ নেই। নাচ, গান, বাজনা কি নেই এই ফেক ঈদে? তাইতো আমলী ঈদ তাদের কাছে ভাল লাগেনা। ওখানে তো আর নাচ গান নেই আর বাজনাও নেই। আছে খালি নামায যাহা তাদের কারোর নিকট দিলের দুশমন।
আরেকটা হলো ওরশ। এই পৃথিবীতে বিনা কষ্টে জান্নাতের যাবার লোক যতদিন থাকবে ততদিন ওরশ নামের মাযার ব্যবসা বা মরা লাশের ব্যবসায় কোনদিনও ভাটা পড়বেনা। চাই সে লোকটা ল্যাংটা পোংটা, গাজাখোর মদখোর হোক, চাই সে জীবনে কোনদিন আল্লাহর দরবারে সিজদা না দিক, এই বাবাই তাদের কান্ডারী। মরা বাবার নামে মান্নত না করলে, তারে না খাওয়াইলে তাদের সন্তানাদি হবেনা, অসুখ বিসুখ বালা মছিবতের অন্ত থাকবেনা। তাই তো ওরশের মাধ্যমে তারা তাদের বাবাকে (শয়তানকে) খুশি রাখে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টি তাদের কাছে কিছুই আসে যায় না।
এখন শীতের মৌসুম। তার মানে তাদের জমজমাট ব্যবসার সিজন। কুত্তা বাগী, দেওয়ান বাগী, রাজারবাগী, সায়দাবাদী, আটরশি, বার রশি, আরো যে কত বাগী ছাগী আর তলী আছে শ্যাষ নেই। আজকাল কাউয়া শাহ, চ্যাংড়া শাহের দরবার শরীফ (!) ও চোখে পড়ে !!
কিন্তু আপনি যদি সত্য কথা বলতে যান দেখবেন তোতা পাখীর মতো শিখানু বুলি আওরানো শুরু করবে। "দেওবন্দী, ওয়াহাবী, খারেজী, জামাতী, তাবলীগী" আরো কত টাইটেল যে লাগাবে ইয়ত্তা নেই। আর এদের সাথে আপনি তর্ক করেও পারবেন না, কারন তারা বারো ঘাটের পানি খায়। এখানে না পারলে ওখানে, ওখানে না পারলে সেখানে, এখান থেকে এক ঠুকর তো আবার অন্যখান থেকে আরেক ঠুকর। শেষ পর্যন্ত চাপার জোর কমে গেলে শুরু হয় গালির বৃষ্টি বর্ষন !!
মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে মিনতি করে দোয়া করি, আপনি এদের হেদায়েতের রাস্তা খুলে দিন। এতগুলা মানুষকে আপনার দ্বীন থেকে বের করে দিয়েন না। এরা হয়ত বুঝতে পারতেছেনা, আপনি এদের বুঝার তৌফিক দান করুন। -----মাসুদ রানাঈদে মীলাদুন্নবী কি ?( বড় দিন উপলক্ষে লেখা )
ঈদ শব্দের অর্থ খুশি, আর মীলাদুন্নবী অর্থ নবীর জন্ম। একত্রে অর্থ হবে নবীর জন্মদিবস উপলক্ষে খুশি বা উত্সব।
১২ ববিউল আউয়াল তারিখে এক দল মুসলমান নবীজী ( সাঃ ) এর জন্মে আনন্দিত হয়ে বিভিন্ন কর্ম সূচির মাধ্যমে জাশনে জুলূছে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে ( এর অর্থ হলো নবীর জন্ম দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য মিছিল )।
এটা কে সত্যি মুসলমানদের ঈদ ?
১) নবীজী (সাঃ) এর জন্ম তারিখ নিয়ে ইতিহাস শাস্ত্রবিদদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ ৯, কেউ ১২ আবার কেউ ৮ রবিউল আউয়াল নবে (সাঃ) জন্ম তারিখ বলেছেন।
২) সর্ব সম্মতিক্রমে ১২ রবিউল আউয়ার হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্ম তারিখ।
৩) রাসুল (সাঃ) এর যুগ, সাহাবায়ে কেরাম (রাযিঃ) এর যুগ, তাবেয়ী ও তবে তাবেয়ীদের যুগে ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করা হতো না।
৬০৪ হিজরীতে মুছেলের আমির মুজাফ্ফার উদ্দীন কুকরী (মৃত ৬৩০ হিঃ ) এর নির্দেশে বড়দিন এর অনুসরণে প্রথম ঈদে মিলাদুন্নবে অনুষ্ঠান চালু হয়।
৪) ক্বোরআন ও হাদিসে কি এর কোন ভিত্তি আছে।
না, অবশ্যি নেই। যা আছে তা হলো আবুলাহাব নবীজী (সাঃ) এর জন্মে আনন্দিত হয়ে তার দাসি ছুয়াইবাকে আজাদ করে দিয়ে ছিলো। আবুলাহাবের অনুসরণ কারীরা কি মুসলমান ? না এর বিরোধিতাকারীরা মুসলমান !
৫) নবীজী (সাঃ) এর জন্মে যারা আনন্ধিত না হয়ে জাশনে জুলুছে করে না তাদেরকে কাফের ফতুয়া দেয়া হয়। আর যারা রাসুল (সাঃ) এর মৃত্যুতে আনন্দ মিছিল করে তারা কি কাফের নয়!
ছোট ভাই ফরহাদ আহমদ পারভেজ এর স্টাটাস নিচের লেখাটা ("আপনি যদি মুসলীম হন তাহলে আপনার উচিত হবে হ্যাপী ম্যারি ক্রিস মাস
বলে কাউকে উইশ না করা । কারণ ক্রিসমাস ঈসা (আঃ) এর জন্মদিন হিসেবে নয়, বরং ঈশ্বরপুত্রের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয় । আর মুসলীমরা যিশু বা ইসা (আঃ) কে ঈশ্বরের পুত্র নয় বরং একজন নবী হিসেবে, একজন রাসুল হিসেবে মানেন । তাই আপনি ম্যারি ক্রিস মাস উইশ করার মানে ইসা (আঃ) কে ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে অজ্ঞাতে মেনে নেয়া । আশা করি এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন ) -----Cyclone Syed
ইসলামকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ জীবন বেবস্থা কর:
এই বার ঈদে মিলাদুন্নবী আর লোকাল ভাবে বা ধর্মীয় দৃষ্টি কোন থেকে উদযাপিত হবেন, বরং রাষ্ট্রীয় ভাবে এবং রাজনৈতিক ভাবে উদযাপিত হবে..কারন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এটাই বলে...হে মুসলিমেরা যদি তোমরা সত্যিই ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করো আললাহর রাসুল মোহাম্মদ সাঃ এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন ও নবী পরিবারের উপর যে জুলুম করেছিল তৎকালীন জালেম শাসক তার জন্য. তাহলে, ,আজকে যে জুলুম ,হত্যা, লুটপাট করছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমেরিকা ভারত ও তার দালাল তাবেদার, শেখ মীরজাফর হাসিনা, খালেদা এরশাদ সহ শাসক গুলো তাহলে তার পরতিবাদের কেন আপনার চুপ করে বসে আছে.মনে করে দেখেন ইমাম হোসেন ঘর থেকে বের হয়ে ছিলেন জালিম কে অপসারণ করার জন্য, মুসলিম উম্মাহ কে জুলুম থেকে মুক্ত করার জন্য. আর আমরা মিলাদুন্নবী উদযাপন করি এই জন্য যে রাস্তায় কিছু উৎসব করে ঘরে চলে যাওয়ার জন্য.মনে রাখবেন আমরা যদি এইটা করে থাকি তাহলে আমরা ইমাম হোসাইন সহ নবী পরিবারে সেই দিন শহীদ হওয়া শহীদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করলাম ..কারন আমরা জানি ওনার জীবন আললাহর জন্য দিয়েছেন জালেম কে অপসারণ করার জন্য,আর আমরা কি করছি..
হে খালেদ বিন ওয়ালীদের ভাইয়ের,নিষ্ঠাবান সেনাঅফিসারে, যে খালেদ সাইফুল্লাহ. সাদ ইবনে মুয়ায,হযরত ইমাম হোসাইন, যে আললাহর, রাসুল, কিতাবের উপর ঈমান এনেছিলেন,আপনারাও একই আললাহর, রাসুল, কিতাবের উপর ঈমান এনেছে. তাহলে আপনাদের পূবপুরুষদের মানে যদি একজন মুসলিম কোন ভাবে জুলুমের শিকার হইতো, তাহলে ওনারা আললাহর ভয়ে থরথর করে ভয়ে কাপতেন এবং সাথে সাথে সেই জালেমের বিরুদ্ধে খোলা তরবারি নিয়ে জমদুতের মত হাজির হতো এবং তার সঠিক পাওয়ানা বুঝিয়ে দিত.কিন্তু আজকে যখন আপানদের সামনে পিলখানায় 57 জন সেনা অফিসার কে ভারতীয় মদদে এই এই খুনি জালিম হাসিনা হত্যা করলো,সীমান্তে ফেলানী কে মেরে কাটাতাঁরে লাশ ঝুলিয়ে রাখে,নিরবাচন নামে নাটকের মাধমে শত শত মানুষ কে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারে, তখন আপনার এইগুলো দেখেও চুপ করে বসে থাকেন কি ভাবে??? আপনার কেন এই হারাম গনতান্ত্রিক বেবস্থা ও এর দালাল শাসক গুলো ধুলাবালি সাথে মিশিয়ে দিচ্ছেন না...একবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একমাত্র আললাহর কে ভয় করে ইসলামকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ জীবন বেবস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাস্তায় বের হয়ে আসুন এবং খিলাফত পতিষ্ঠা করুন .....Moon Tanvir
প্রশংসাও ভালবাসার দাবি কি কোন কল্যাণে আসবে?
For More Visit The Link
http://salafibd.wordpress.com/2014/01/09/eid-milad/
আফছোছ আজ ইহুদীআলেমদের ন্যায় একদল আলেম তৈরী হয়েছে যারা টাকার লোভে মনে যা চায় তা বলে, সমাজে বেদাত চালু করে, ওয়াজে অমুক কাফের তমুক কাফের বলে ফতোয়া দেয়। অথচ সে যে কুফুরী কাজ করতেছে তা ঢের পায়না...

মাসটা রবিউল আওয়াল তারউপর শীত। দেশী ধর্ম ব্যবসায়ীদের জন্য এটা বাৎসরিক ধান্ধার মওসুম।
উপরের কথাটা এখন হরহামেশা শুনবেন।
কথা সত্য তবে মতলব খারাপ।
মীলাদুন্নবী অর্থ নবী সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম।তাঁর জন্মকে যারা অস্বীকার করবে তারাতো কাফেরই।
চট্টগ্রামে একটা কথা আছে "মেজবান খাইতে গেছি।মেজবান বলা হয় যিনি দাওয়াত দিছেন।কথাটার অর্থ হয় দাওয়াত দাতাকে খাইতে গেছি!যদিও শাব্দিক অর্থে কথাটা ভুল কিন্তু উদ্দেশ্য খেয়াল করলে কথাটায় কোন সমস্যা নাই।
মেজবান খাইতে গেছি কথাটার উদ্দেশ্য থাকে মেজবান যে খানার আয়োজন করছেন তা খাইতে গেছি।সবাই গূড় অর্থটা জানেন তাই দোষ ধরেন না।
মীলাদুন্নবির শাব্দিক অর্থ যদিও নবী সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন।কিন্তু রবিউল আওয়াল মাসের বিশেষ দিনে পৃথিবীর কিছু নির্দিষ্ট দেশে মিলাদুন্নবী নামক যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তা নবীর জন্ম শব্দের সাথে সম্পর্ক রাখেনা।তাই কেউ যদি বলে বা কারো বলার উদ্দেশ্য এটা হয়,রবিউল আওয়াল মাসে মিলাদুন্নবী নামক ইসলাম বহির্ভূত,মনগড়া যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আমি তা মানিনা।তাহলে তাকে কাফের বলা যাবেনা।কেউ যদি মূল উদ্দেশ্যকে লুকিয়ে শুধুমাত্র শাব্দিক অর্থকে ব্যবহার করে কাউকে কাফের ফতোয়া দেন তবে ফতোয়াদাতাই কাফের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।কারণ হুজুর সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন কোন মুসলমান অপর মুসলমানকে কাফের বললে তাদের যেকোন একজন কাফের হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে মিলাদুন্নবি মানে রবিউল আওয়াল মাসের বিশেষায়িত এক অনুষ্ঠান যেটার নমুনা না স্বয়ং হুজুর সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আছে,না খুলাফায়ে রাশেদার যুগে আছে।আর না কোন ইমামের যুগে আছে।তাই ৬০০ হিজরিতে আবিষ্কৃত অনৈসলামিক অনুষ্ঠান মিলাদুন্নবি মানিনার কারণে কাউকে কাফির বললে,ফতোয়া দাতাই কাফিরের যোগ্য বেশি।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মিলাদুন্নবি নামক অনুষ্ঠান না মানার কারণ এটা ইসলামের প্রাথমিক বা তার পরের যুগে পালিত হয়েছে,এরকম কোন প্রমাণ নাই।বরং হিজরি সন চালুর ৬০০ বছর পরে এক অজনপ্রিয় শাসক মুজাফফর উদ্দীন কওকরি তার দরবারি আলেম দিহইয়া কালবির পরামর্শে জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারের জন্য মিলাদুন্নবি অনুষ্ঠান চালু করে।এজন্য আজ বাংলায়ও হাসিনা-খালেদা ইসলামের আইন বাস্তবায়নে উদ্যোগী না হলেও জশনে-জুলুস পালনে ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেয়।
কট্টর নাস্তিকবাদী হাসিনাও মিলাদুন্নবিকে তার ইসলাম বিরোধী মানসিকতা লুকাতে ব্যবহার করে।ইনু-আসিফ মহিউদ্দিন-জাফর ইকবালরাও এমন আমল বিহীন অনুষ্ঠান খুবই পছন্দ করে।থাবা বাবার মত নাস্তিক ঈদ-কুরবানি থেকে নিয়ে ইসলামের সব অনুষ্ঠান নিয়ে কটাক্ষ করলেও কথিত সকল ঈদের সেরা ঈদ মিলাদুন্নবি নামক অনুষ্ঠান নিয়ে কিছুই বলেনি।
কারণ এই অনুষ্ঠানের দ্বারা ইসলামের কোন লাভ হচ্ছেনা।২ ঈদে নামাজের নিয়ম থাকলেও সেরা ঈদে নামাজের কোন অন্তর্ভুক্তি নাই।শুধু রঙ-চঙে কাপড় পড়ে রাস্তায় ঘুরে গান-বাদ্যর মাধ্যমেই এই অনুষ্ঠান পালন হয়ে যায়।যারা এই মিছিলে শরীক হয় তাদের নামাজের কোন ব্যবস্থা বা ঠিকানা কিংবা পড়ারও কোন ইচ্ছা দেখা যায়না।বাইকে চড়ে,মোড়ে-মোড়ে শরবত খেয়ে দিনভর মাস্তির মাধ্যমেই এই দিবস পালন করা যায়।
যার কারণে নাস্তিক-বিধর্মীদেরও প্রিয় অনুষ্ঠান ঈদে মিলাদুন্নবি!মুসলমান এরকম আমলহীন,মাস্তিভরা অনুষ্ঠানেই ইসলাম খুজুক-পালন করুক এটাই নাস্তিক-বিধর্মীদের চাওয়া।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
হুজুর পাক সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দ্বীনের প্রতিটি স্তর শিক্ষা দিয়ে গেছেন।তাঁর প্রতি সম্মান কিভাবে জানানো হবে এই আদবও বলে গিয়েছেন।উনার পরিবারের সাথে কিরুপ আচরণ করতে হবে,এ নির্দেশনাও আল্লাহ্ কুরআনে বলেছেন।২ ঈদে আমরা কখন উঠব,কেমন জামা পরব।গরু কিভাবে জবাই করব,মাংস কিরুপে বিতরণ হবে সব নির্দেশনা আছে।
কিন্তু সকল ঈদের সেরা ঈদ কিভাবে শুরু হবে,মানুষ কিরুপে অংশগ্রহণ করবে।তাদের জামা-কাপড় কিরকম হবে।জুলুসে কে নেতৃত্ব দেবে কোন নির্দেশনা নাই।
এটা কেমন ঈদ?
হুজুর সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম মিলাদুন্নবি দিবসের কথা বলেছেন বা সাহাবাদের নিয়ে মিছিল করেছেন বা করতে বলেছেন কিংবা উনার ইন্তেকালের পরে সাহাবারা এরকম জুলুস করেছেন,এরকম কোন প্রমাণ নাই।
এ অনুষ্ঠান নবী সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের না,উনি করেননি।
সাহাবাদের না,উনারাও করেননি।
আমরা যারা মাযহাব মানি।কোন ঈমামের বইয়েও এ সম্পর্কিত কোন মাসআলা নাই।
অর্থাৎ এ উৎসব কোন ইমামেরও না।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
বিদআ'তিরা কিছু হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলে হযরত আবু বকর বা উসমান রদিয়াল্লহু তাআ'লা আনহ বলেছেন যারা মিলাদুন্নবিতে এক পয়সা খরচ করবে....
উত্তরটা এখানেই!
তারা কোন জইফ হাদিস দূরের কথা একটা জাল হাদিসও বের করতে পারবেনা যেখানে ৪ খলিফার কোন একজন বা কোন সাহাবি ১২ই রবিউল আওয়াল একটা মিছিল বের করেছেন।ওই মিছিলে লক্ষ সাহাবি ব্যানার ফেস্টুন হাতে যোগ দিয়েছেন।বিভিন্ন যানবাহন সাজিয়েছেন।এরকম কোন উদাহরণ তারা দিতে পারবেনা।
হুজুর সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথিবীতে সবচে বেশি মুহাব্বত করেছেন সাহাবারা।কেউ যদি বলে আমি হযরত আবু বকর রদিয়াল্লহু তাআ'লা আনহ এর চাইতে বেশি নবিপ্রেমী তবে সে ভন্ড।
যখন নবী সল্লাল্লহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন লক্ষাধিক সাহাবা রেখে গিয়েছিলেন।মুসলমানদের ঈমাম ছিলেন জগতের সবচে বড় নবিপ্রেমিক হযরত আবু বকর রদিয়াল্লহু তাআ'লা আনহ।
নবিপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে লক্ষাধিক সাহাবা নিয়ে খলিফাতুল মুসলিমীন ১২ই রবিউল আওয়াল জুলুস-মিছিল বা এ জাতীয় কিছু করেছেন।উনার পরবর্তী ৩ খলিফা করেছেন,এরকম কোন নজির নাই।
বাংলাদেশের কিছু মুসলিম ৮৪ সাল থেকে পাকিস্তান থেকে পীর ভাড়া করে এনে ১২ই রবিউল আওয়াল জশনে জুলুস করে সাহাবাদের চাইতেও বড় প্রেমী বনে গেলেন?
মিলাদুন্নবি অনুষ্ঠান না মানা,পালন না করারা কাফের বলে উনারা কি সাহাবাদের সহ স্বয়ং রসুলুল্লাহকেও অভিযুক্ত করেনি?নাউ'জুবিল্লাহ!
এরা কারা যারা খুলাফায়ে রাশেদার চাইতেও বড় নবিপ্রেমী?
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
বাংলাদেশ সহ উপমহাদেশের অধিকাংশ মুসলিমই হানাফি মাযহাবের অনুসারী।
মিলাদুন্নবি নামক অনুষ্ঠানের বৈধতা যাচাইয়ে আমরা ইমাম আবু হানিফার দিকে তাকালেই সত্য ধরতে পারব।
ইমাম আবু হানিফা মিলাদুন্নবি বিষয়ে কোন ফতোয়া দিয়েছেন,এরকম কোন প্রমাণ নাই।না থাকার কারণ তখন এ রকম কোন অনুষ্ঠানের অস্তিত্বই ছিলনা যার কারণে কোন মুসলমানকে উনার নিকট মিলাদুন্নবির বিষয়ে জিজ্ঞেসই করতে হয়নি।জিজ্ঞেস না করা বা অস্তিত্ব না থাকার কারণে ইমামে আ'জম বা অপর ৩ ইমামকে এ বিষয়ে কিছু লেখার অবকাশই হয়নি।
যারা পালন করে বিরাট কিছু করে ফেলেছেন,যারা করেনা তাদের গালি দিচ্ছেন।তারা নামে হানাফি হলেও বাস্তবে ইমাম আবু হানিফাকেও গালি দিচ্ছেন।তিনিওতো এ ব্যাপারে নীরব!না পালন করেছেন বা করা-না করার ব্যাপারে কোন ফতোয়া দিয়েছেন।
এ উদ্ভট মনগড়া অনুষ্ঠানের মূলে তাদের প্রদত্ত ওই উক্তিটাই "মিলাদুন্নবিতে যে এক পয়সা খরচ করবে....
জী! মিলাদুন্নবি পালনের মূল উদ্দেশ্য টাকা!
এই অনুষ্ঠানের নাম করে পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক চাঁদাবাজি করা হয়।ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় এতে মানুষকে টাকা দিতেই হয়।১২ তারিখের আগে বিভিন্ন সড়কে গাড়ি থামিয়ে মিলাদুন্নবির নামে জোরপূর্বক ড্রাইভারের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া হয়।যাত্রীদেরও বাধ্যতামূলক দিতে হয় টাকা।বিদেশ থেকে পাঠানো হয় প্রচুর টাকা।এই টাকার জন্যই পাকিস্তান থেকে আওলাদে রসুলের নামে ভাড়াতে পীর এনে চাঁদাবাজি করে কিছু টাকা পাকিস্তান পাচার হয়।কিছু টাকা যায় জুলুস সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায়।পাড়া-মহল্লার টাকা যায় বেকার-ছ্যাঁচড়াদের দ্বারা পরিচালিত জুলুস কমটির পকেটে।কেউ হিসাব নেয়না টাকা কত উঠেছে,কত খরচ হয়েছে বা এখন কিরকম টাকা আছে।
অনেকদিন ধরে চলে আসছে মিলাদুন্নবির নামে নিরীহ মুসলমানের পকেট কাটা।
এজন্যই ধান্ধা টিকিয়ে রাখতে ভণ্ডরা ফতোয়া দেয়... সকল ঈদের সেরা ঈদ,ঈদে মিলাদুন্নবী!
১২ই রবিউল আওয়াল জশনে-জুলুস ফরয! যারা মিলাদুন্নবি,জশনে-জুলুস মানেনা তারা কাফের! ----নিজাম বাই থ্রীজি
যারা নবীর সুন্নাতকে আর্দশের মাপকাঠি না বানিয়ে মনগড়াভাবে ধর্ম পালন
করে,এরা যদি দাবী করে আমরা আহলে সুন্নাত,.তারা সত্যিকারের আহলে সুন্নাত না ধোকাবাজের আহলে সুন্নাহ?
তাদের একটি ধোকাবাজি হচ্ছে মিলাদুন্নবী । হাদীস শরীফে আছে ,আল্লাহর রাসূল সাঃ প্রতি সপ্তাহের
সোমবারে রোযা রাখতেন । সাহাবায়ে কিরাম
জিজ্ঞেসকরলেন ,আপনি প্রতি সপ্তাহের সোমবারে নফল রোযা রাখেন কেন ? রাসুল
সাঃ বললেন,দুই কারনে এক ,,আমার কাছে সর্বপ্রথম যেদিন ওহী নাজিল
হয়েছিল সেদিন ছিল সোমবার ।তাই আমি সপ্তাহের সোমবারে নফল রোযা রেখে আল্লাহর
শুকরিয়া আদায় করি । দুই ,,আমি যেদিন জন্মগ্রহন করেছিলাম,সেদিন ছিল
সোমবার ।তাই আমি এদিন নফল রোযা জন্মের শুকরিয়া আদায় করি ।এ হাদিসটি মুসলিম শরীফের
হাদিস । সহীহ মুসলিম শরীফের হাদিসে রাসুল সাঃ জন্ম উপলহ্মে রোযা রাখতেন । নবীর জন্মকে আরবী ভাষায় বলে,মীলাদুন্নবী । বাংলা ভাষায় নবীর জন্ম ।
মীলাদুন্নবী উপলহ্মে নবী কি করতেন? রোযা রাখতেন ।আর ওরা মিলাদুন্নবী উপলহ্মে করে ঈদ ।
মিলাদুন্নবী উপলহ্মেনবী রোযা রাখতেন আর ওরা করে ঈদ ।এর নাম কি নবীর তরীকা না মনগড়া তরিকা? মনগড়া তরিকা ।কাজ করে মনগড়া তরিকায় আর দাবী করে আহলে সুন্নাত ,.এরা কি আহলে সুন্নাত নাধোকাবাজ ?ধোকাবাজ । মিলাদুন্নবী উপলহ্মে নবী কোন আমল
করেছেন কি? আমলটার নাম ঈদ না রোযা ?রোযা । এরা নবীর মুহাব্বত দেখায় ।
আমি আপনাদেরকে জিজ্ঞেস করি একজন আরেকজনকে আন্তরিকভাবে মুহাব্বত
করলে ঢাক ঢোল পেটায় ,না কাজে কর্মে প্রমান দেয়? কাজে কর্মে প্রমান দেয় ।আর যার কাজ
করেনা মুখের দ্বারা ঢাকঢোল পেটায় ? একটা মেয়ের জন্য তার স্বামীকে মুহাব্বতের
প্রয়োজন হয় ?না স্বামীর কথা পালনের মাধ্যম হয় ?যে নারী তার স্বামীর কথা মানে সেই নারীর
প্রচার করতে হয়না ,আমি আমার স্বামীকে ভালবাসি।ঠিক তেমনিভাবে যে উম্মত
নবীকে মুহব্বত করে তাদের বলতে হয়না ,আমি নবীকে মহব্বত করি ,আমি নবীকে মহব্বত
করি বরং এটা নবীর তরিকা পালনের মাধ্যমে প্রমানিত হয় । যে নারী স্বামীকে মুহাব্বত করেনা সেই
নারী মুখে মুখে প্রচার করে কেন ?এই প্রচার বাস্তব না বরং ধোকা ।তেমনিভাবে যে উম্মত
নবীর তরিকা পালন করেনা আর প্রচার করে নবীকে মুহাব্বত করি ,.এটাও ধোকা ।
ওরা সত্যিকারের আহলে সুন্নাত নাকি আহলে সুন্নাত নামে ধোকাঁবাজ ।ধোকাবাজ ।।
মিলাদুনব্বীতে ওরা করে ঈদ । নবী পালন করতেন রোযা আর ওরা করে ঈদ ।এর
মাঝে কতগুলো রহস্য আছে ? এরমাঝে একটা হল ,রোযা হয় না খেয়ে আর ঈদ হয়
মিষ্টি খাওয়ার ধুমধাম করে । ওরা না খেয়ে মুহাব্বতে নেই ,মিষ্টি খেয়ে মুহাব্বতে আচে ।
কাজেই ওদের মুহাব্বতেআর খাটি মুহাব্বতে ব্যবধান আছে । ওরা যদি দাবি করে আমরা সত্যিকারের
আহলে সুন্নাত ,তাহলে আহলে সুন্নাত নামের ধুকাবাজ । আরেকটা রহস্য নবী মিলাদুন্নবী উপলহ্মে রোযা রাখতেন বছরে একদিন?শুধু ১২ই রবিউল আওয়ালে ? নাকি প্রতি সোমবারে ।নবী যেই আমল করেছেন ,সেই আমল করতে হলে বছরে ৫২দিন উপোস থাকতে হয় । এই মুহাব্বতে ওরা নেই ।এর বিপরীতে বছরে একবার ১২ই রবিউল আওয়ালে মিষ্টি খাওয়ার, ধুমধাম করা যায় ।এরা কষ্টের মুহাব্বতে না মিষ্টির মুহাব্বতে ?ওরারোযার মুহাব্বতে না ঈদের মুহাব্বতে?এরা না খাওয়ার মুহব্বতে না খাওয়ার
মুহব্বতে ?এই হচ্ছে ওদের মুহব্বতের আসল পরিচয়। নবী কোন পথে আর এরা কোন পথে ?
এরপর ও ওরা আশেকে রাসূল !আশেকে রাসূল নামে ধোকাবাজ।। -----Hilful Fujul
এক শ্রেণীর মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলো দুইটা।
১। ঈদে মিলাদুন্নবী ২। ওরশ
ঈদে মিলাদুন্নবী নাকি সৃষ্টি কুলের শ্রেষ্ট ঈদ তাই আল্লাহ প্রদত্ত দুই ঈদ (ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আজহ) তাদের কাছে কোন ঈদই না। তৃতীয় ফেক ঈদ নিয়া তাদের মাতামাতির কোন শেষ নেই। নাচ, গান, বাজনা কি নেই এই ফেক ঈদে? তাইতো আমলী ঈদ তাদের কাছে ভাল লাগেনা। ওখানে তো আর নাচ গান নেই আর বাজনাও নেই। আছে খালি নামায যাহা তাদের কারোর নিকট দিলের দুশমন।
আরেকটা হলো ওরশ। এই পৃথিবীতে বিনা কষ্টে জান্নাতের যাবার লোক যতদিন থাকবে ততদিন ওরশ নামের মাযার ব্যবসা বা মরা লাশের ব্যবসায় কোনদিনও ভাটা পড়বেনা। চাই সে লোকটা ল্যাংটা পোংটা, গাজাখোর মদখোর হোক, চাই সে জীবনে কোনদিন আল্লাহর দরবারে সিজদা না দিক, এই বাবাই তাদের কান্ডারী। মরা বাবার নামে মান্নত না করলে, তারে না খাওয়াইলে তাদের সন্তানাদি হবেনা, অসুখ বিসুখ বালা মছিবতের অন্ত থাকবেনা। তাই তো ওরশের মাধ্যমে তারা তাদের বাবাকে (শয়তানকে) খুশি রাখে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টি তাদের কাছে কিছুই আসে যায় না।
এখন শীতের মৌসুম। তার মানে তাদের জমজমাট ব্যবসার সিজন। কুত্তা বাগী, দেওয়ান বাগী, রাজারবাগী, সায়দাবাদী, আটরশি, বার রশি, আরো যে কত বাগী ছাগী আর তলী আছে শ্যাষ নেই। আজকাল কাউয়া শাহ, চ্যাংড়া শাহের দরবার শরীফ (!) ও চোখে পড়ে !!
কিন্তু আপনি যদি সত্য কথা বলতে যান দেখবেন তোতা পাখীর মতো শিখানু বুলি আওরানো শুরু করবে। "দেওবন্দী, ওয়াহাবী, খারেজী, জামাতী, তাবলীগী" আরো কত টাইটেল যে লাগাবে ইয়ত্তা নেই। আর এদের সাথে আপনি তর্ক করেও পারবেন না, কারন তারা বারো ঘাটের পানি খায়। এখানে না পারলে ওখানে, ওখানে না পারলে সেখানে, এখান থেকে এক ঠুকর তো আবার অন্যখান থেকে আরেক ঠুকর। শেষ পর্যন্ত চাপার জোর কমে গেলে শুরু হয় গালির বৃষ্টি বর্ষন !!
মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে মিনতি করে দোয়া করি, আপনি এদের হেদায়েতের রাস্তা খুলে দিন। এতগুলা মানুষকে আপনার দ্বীন থেকে বের করে দিয়েন না। এরা হয়ত বুঝতে পারতেছেনা, আপনি এদের বুঝার তৌফিক দান করুন। -----মাসুদ রানাঈদে মীলাদুন্নবী কি ?( বড় দিন উপলক্ষে লেখা )
১২ ববিউল আউয়াল তারিখে এক দল মুসলমান নবীজী ( সাঃ ) এর জন্মে আনন্দিত হয়ে বিভিন্ন কর্ম সূচির মাধ্যমে জাশনে জুলূছে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে ( এর অর্থ হলো নবীর জন্ম দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য মিছিল )।
এটা কে সত্যি মুসলমানদের ঈদ ?
১) নবীজী (সাঃ) এর জন্ম তারিখ নিয়ে ইতিহাস শাস্ত্রবিদদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ ৯, কেউ ১২ আবার কেউ ৮ রবিউল আউয়াল নবে (সাঃ) জন্ম তারিখ বলেছেন।
২) সর্ব সম্মতিক্রমে ১২ রবিউল আউয়ার হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্ম তারিখ।
৩) রাসুল (সাঃ) এর যুগ, সাহাবায়ে কেরাম (রাযিঃ) এর যুগ, তাবেয়ী ও তবে তাবেয়ীদের যুগে ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করা হতো না।
৬০৪ হিজরীতে মুছেলের আমির মুজাফ্ফার উদ্দীন কুকরী (মৃত ৬৩০ হিঃ ) এর নির্দেশে বড়দিন এর অনুসরণে প্রথম ঈদে মিলাদুন্নবে অনুষ্ঠান চালু হয়।
৪) ক্বোরআন ও হাদিসে কি এর কোন ভিত্তি আছে।
না, অবশ্যি নেই। যা আছে তা হলো আবুলাহাব নবীজী (সাঃ) এর জন্মে আনন্দিত হয়ে তার দাসি ছুয়াইবাকে আজাদ করে দিয়ে ছিলো। আবুলাহাবের অনুসরণ কারীরা কি মুসলমান ? না এর বিরোধিতাকারীরা মুসলমান !
৫) নবীজী (সাঃ) এর জন্মে যারা আনন্ধিত না হয়ে জাশনে জুলুছে করে না তাদেরকে কাফের ফতুয়া দেয়া হয়। আর যারা রাসুল (সাঃ) এর মৃত্যুতে আনন্দ মিছিল করে তারা কি কাফের নয়!
ছোট ভাই ফরহাদ আহমদ পারভেজ এর স্টাটাস নিচের লেখাটা ("আপনি যদি মুসলীম হন তাহলে আপনার উচিত হবে হ্যাপী ম্যারি ক্রিস মাস
বলে কাউকে উইশ না করা । কারণ ক্রিসমাস ঈসা (আঃ) এর জন্মদিন হিসেবে নয়, বরং ঈশ্বরপুত্রের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয় । আর মুসলীমরা যিশু বা ইসা (আঃ) কে ঈশ্বরের পুত্র নয় বরং একজন নবী হিসেবে, একজন রাসুল হিসেবে মানেন । তাই আপনি ম্যারি ক্রিস মাস উইশ করার মানে ইসা (আঃ) কে ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে অজ্ঞাতে মেনে নেয়া । আশা করি এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন ) -----Cyclone Syed
মিলাদুন্নবী উদযাপন সংক্রান্ত শরীয়াতের বিধান:
মিলাদুন্নবী উদযাপন হারাম এবং বেশ কয়েকটি কারণে পরিত্যাজ্য:
প্রথম কারণ:
এটি রাসূলুল্লাহ(সঃ) কিংবা তাঁর সাহাবিদের রাঃ সুন্নাত ছিল না.এমন কি তাবেঈ – তাবে তাবেঈ আঈয়ম্মায়ে মুজতাহিদীনের সময় ও প্রচলিত মিলাদুন্নবির প্রচলন ছিলোনা। ফলে এটি একটি নিষিদ্ধ নব উদ্ভাবন।
বিদাতীরা কিছু জাল হাদিসের আশ্রয় নিয়ে এবং বুজুরগানে দীনের নামের অপবেবহার করে প্রচলিত মিলাদুন্নবীকে জায়েজ করে নিয়েছে।
অথছ নবীজী(সঃ) বলেছেন:
“আমি তোমাদেরকে আমার এবং আমার পরবর্তী সঠিক পথপ্রাপ্ত সাহাবায়ে কেরামদের এবং তাদের পরবর্তীদের অনুসরণের ব্যাপারে তাগিদ দিচ্ছি; তোমরা কুরআন এবং সুন্নাহ কে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাক। [দ্বীনের মধ্যে] নব উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সাবধান হও, কেননা প্রতিটি নবোদ্ভাবিত বিষয়ই বিদাত, এবং প্রতিটি বিদাতই হচ্ছে পথভ্রষ্টতা।” (আহমাদ, তিরমিযী)
দ্বিতীয় কারণ:
মিলাদুন্নবী একটি বিদাত যা মুসলিমদের দ্বীনকে নষ্ট করার জন্য ফাতিমীয় শিয়ারা চালু করেছিল ইরাকের মসুল শহর থেকে। প্রথম তিনটি শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের সময়কাল অতিবাহিত হওয়ার পর। কেউ যদি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এমন কিছু করে যা রাসূল(সঃ) করেননি কিংবা করতে বলেননি এবং তার উত্তরসূরী খলীফারাও করেন নি, তাহলে তার অর্থ এই দাঁড়ায় যে সে দাবী করছে যে রাসূল(সঃ) মানুষের কাছে পরিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি ব্যাখ্যা করেননি [নাউযুবিল্লাহ], ফলে সে আল্লাহর এই আয়াতকে অস্বীকার করে:
“আজ আমি, তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পূর্ণ করে দিলাম।” (সূরা আল মায়িদাহ, ৫:৩)
কারণ সে দ্বীনের মধ্যে বাড়তি কিছু সংযোজন করছে এবং দাবী করছে যে তা দ্বীনের অংশ অথচ রাসূল(সঃ) তা [আল্লাহর পক্ষ থেকে] নিয়ে আসেননি।
তৃতীয় কারণ:
মিলাদুন্নবী উদযাপনের দ্বারা খ্রীস্টানদের অনুসরণ করা হয়, কেননা তারা মসীহের(আঃ) জন্মদিন পালন করে। আর তাদের অনুসরণ করা চূড়ান্ত হারাম কাজ। হাদীসে আমাদেরকে কাফিরদের অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তাদের থেকে ভিন্ন হতে আদেশ করা হয়েছে। নবীজী(সঃ) বলেছেন:
“যে কেউই কোন জাতির অনুসরণ করে, সে তাদেরই একজন হিসেবে পরিগণিত।”(আহমদ, আবু দাঊদ)
এবং তিনি বলেন:
“মুশরিকদের থেকে ভিন্ন হও।”(মুসলিম)
- বিশেষত এই নির্দেশ সেসব বিষয়ের ক্ষেত্রে যা তাদের ধর্মীয় নিদর্শন এবং আচার অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত।
চতুর্থ কারণ:
বিদাত এবং খ্রীস্টানদের অনুসরণ করার মত হারাম কাজ হওয়া ছাড়াও মিলাদুন্নবী উদযাপন অতিরঞ্জন এবং নবীজীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির পথ উন্মোচন করে, যেমন জসনে জুলুস,রেলি,গান বাদ্ধযন্ত্র, মাজারে মাজারে শিরনি বিতরন ইত্যাদি। যা কিনা আল্লাহকে ডাকার পরিবর্তে নবীজীকে ডাকা এবং তাঁর সাহায্য চাওয়া পর্যন্ত রূপ নিতে পারে, যেমনটি বিদাতী এবং মিলাদ পালনকারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ঘটে থাকে, যখন তারা আল্লাহর পরিবর্তে রাসূলকে(সঃ) ডাকে, নবীজী(সঃ) তাঁর প্রশংসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে বলেছেন:
“আমাকে এমনভাবে প্রশংসা করো না যেমনটি খ্রীস্টানরা মরিয়মের পুত্রকে করে থাকে। কেননা আমি তাঁর বান্দাহ মাত্র। সুতরাং [আমার সম্পর্কে] বল: আল্লাহর বান্দাহ ও রাসূল।” (বুখারী)
অর্থাৎ খ্রীস্টানরা যেমন মসীহের(আঃ) প্রশংসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পরিবর্তে তার ইবাদত করা শুরু করে দিয়েছে, তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে তেমনটি করো না। আল্লাহ তাদেরকে এ ব্যাপারে নিষেধ করে আয়াত নাযিল করেছেন:
:“হে আহলে কিতাব! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলো না। মরিয়মের পুত্র মসীহ ঈসা তো আল্লাহর রাসূল ও মরিয়মের নিকট প্রেরিত তাঁর বাণী ছাড়া আর কিছুই নন, এবং আল্লাহর সৃষ্টি করা এক রূহ।…” (সূরা আন নিসা, ৪:১৭১)
আমাদের নবীজী(সঃ) তাঁর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, পাছে না আমাদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটে, যা তাদের ক্ষেত্রে ঘটেছে, তাই রাসুল (সঃ) বলেছেন:
“অতিরঞ্জনের ব্যাপারে সাবধান! কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা অতিরঞ্জনের কারণেই ধ্বংস হয়েছিল।” (নাসাঈ)
পঞ্চম কারণ:
মিলাদুন্নবীর এই বিদাত উদযাপন অন্যান্য বিদাতের দ্বারকে উন্মুক্ত করে এবং সুন্নাত থেকে বিমুখ করে দেয়। তাই বিদাতপন্থীদেরকে দেখা যায় বিদাতের ক্ষেত্রে খুব উৎসাহী আর সুন্নাত পালনের ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা; তারা একে ঘৃণা করে এবং সুন্নাতের অনুসারীদেরকে শত্রুজ্ঞান করে, শেষ পর্যন্ত তাদের গোটা ধর্মই পরিণত হয় বাৎসরিক বিদাতী অনুষ্ঠানাদি এবং মিলাদের সমষ্টিতে। এভাবে তারা বিভিন্ন মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে এবং সাহায্যের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে এইসব তথাকথিত বুজুর্গ ব্যক্তিদের ডাকে, তারা ধারণা করে যে এইসব ব্যক্তি উপকার কিংবা ক্ষতি বয়ে আনতে সক্ষম, এমনিভাবে তারা আল্লাহর দ্বীন থেকে সরে গিয়ে জাহেলিয়াতের যুগের লোকেদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
“এবং তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর উপাসনা করে যা তাদের কোন ক্ষতিও করতে পারে না এবং কোন উপকারও করতে পারে না। তারা বলে: এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।” (সূরা ইউনুস, ১০:১৮)
আল্লাহ বলেন “…আর যারা আল্লাহকে ছেড়ে অপরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছে, তারা বলে: আমরা তো এদের উপাসনা করি কেবল এজন্য যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়…” (সূরা আয যুমার, ৩৯:৩)
আল্লাহ সবাইকে হক বুজার তাওফিক দান করুন। ----Omar Bin Aziz
'বার্থ ডে 'পালন:
প্রথম কারণ:
এটি রাসূলুল্লাহ(সঃ) কিংবা তাঁর সাহাবিদের রাঃ সুন্নাত ছিল না.এমন কি তাবেঈ – তাবে তাবেঈ আঈয়ম্মায়ে মুজতাহিদীনের সময় ও প্রচলিত মিলাদুন্নবির প্রচলন ছিলোনা। ফলে এটি একটি নিষিদ্ধ নব উদ্ভাবন।
বিদাতীরা কিছু জাল হাদিসের আশ্রয় নিয়ে এবং বুজুরগানে দীনের নামের অপবেবহার করে প্রচলিত মিলাদুন্নবীকে জায়েজ করে নিয়েছে।
অথছ নবীজী(সঃ) বলেছেন:
“আমি তোমাদেরকে আমার এবং আমার পরবর্তী সঠিক পথপ্রাপ্ত সাহাবায়ে কেরামদের এবং তাদের পরবর্তীদের অনুসরণের ব্যাপারে তাগিদ দিচ্ছি; তোমরা কুরআন এবং সুন্নাহ কে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাক। [দ্বীনের মধ্যে] নব উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সাবধান হও, কেননা প্রতিটি নবোদ্ভাবিত বিষয়ই বিদাত, এবং প্রতিটি বিদাতই হচ্ছে পথভ্রষ্টতা।” (আহমাদ, তিরমিযী)
দ্বিতীয় কারণ:
মিলাদুন্নবী একটি বিদাত যা মুসলিমদের দ্বীনকে নষ্ট করার জন্য ফাতিমীয় শিয়ারা চালু করেছিল ইরাকের মসুল শহর থেকে। প্রথম তিনটি শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের সময়কাল অতিবাহিত হওয়ার পর। কেউ যদি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এমন কিছু করে যা রাসূল(সঃ) করেননি কিংবা করতে বলেননি এবং তার উত্তরসূরী খলীফারাও করেন নি, তাহলে তার অর্থ এই দাঁড়ায় যে সে দাবী করছে যে রাসূল(সঃ) মানুষের কাছে পরিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি ব্যাখ্যা করেননি [নাউযুবিল্লাহ], ফলে সে আল্লাহর এই আয়াতকে অস্বীকার করে:
“আজ আমি, তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পূর্ণ করে দিলাম।” (সূরা আল মায়িদাহ, ৫:৩)
কারণ সে দ্বীনের মধ্যে বাড়তি কিছু সংযোজন করছে এবং দাবী করছে যে তা দ্বীনের অংশ অথচ রাসূল(সঃ) তা [আল্লাহর পক্ষ থেকে] নিয়ে আসেননি।
তৃতীয় কারণ:
মিলাদুন্নবী উদযাপনের দ্বারা খ্রীস্টানদের অনুসরণ করা হয়, কেননা তারা মসীহের(আঃ) জন্মদিন পালন করে। আর তাদের অনুসরণ করা চূড়ান্ত হারাম কাজ। হাদীসে আমাদেরকে কাফিরদের অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তাদের থেকে ভিন্ন হতে আদেশ করা হয়েছে। নবীজী(সঃ) বলেছেন:
“যে কেউই কোন জাতির অনুসরণ করে, সে তাদেরই একজন হিসেবে পরিগণিত।”(আহমদ, আবু দাঊদ)
এবং তিনি বলেন:
“মুশরিকদের থেকে ভিন্ন হও।”(মুসলিম)
- বিশেষত এই নির্দেশ সেসব বিষয়ের ক্ষেত্রে যা তাদের ধর্মীয় নিদর্শন এবং আচার অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত।
চতুর্থ কারণ:
বিদাত এবং খ্রীস্টানদের অনুসরণ করার মত হারাম কাজ হওয়া ছাড়াও মিলাদুন্নবী উদযাপন অতিরঞ্জন এবং নবীজীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির পথ উন্মোচন করে, যেমন জসনে জুলুস,রেলি,গান বাদ্ধযন্ত্র, মাজারে মাজারে শিরনি বিতরন ইত্যাদি। যা কিনা আল্লাহকে ডাকার পরিবর্তে নবীজীকে ডাকা এবং তাঁর সাহায্য চাওয়া পর্যন্ত রূপ নিতে পারে, যেমনটি বিদাতী এবং মিলাদ পালনকারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ঘটে থাকে, যখন তারা আল্লাহর পরিবর্তে রাসূলকে(সঃ) ডাকে, নবীজী(সঃ) তাঁর প্রশংসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে বলেছেন:
“আমাকে এমনভাবে প্রশংসা করো না যেমনটি খ্রীস্টানরা মরিয়মের পুত্রকে করে থাকে। কেননা আমি তাঁর বান্দাহ মাত্র। সুতরাং [আমার সম্পর্কে] বল: আল্লাহর বান্দাহ ও রাসূল।” (বুখারী)
অর্থাৎ খ্রীস্টানরা যেমন মসীহের(আঃ) প্রশংসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পরিবর্তে তার ইবাদত করা শুরু করে দিয়েছে, তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে তেমনটি করো না। আল্লাহ তাদেরকে এ ব্যাপারে নিষেধ করে আয়াত নাযিল করেছেন:
:“হে আহলে কিতাব! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলো না। মরিয়মের পুত্র মসীহ ঈসা তো আল্লাহর রাসূল ও মরিয়মের নিকট প্রেরিত তাঁর বাণী ছাড়া আর কিছুই নন, এবং আল্লাহর সৃষ্টি করা এক রূহ।…” (সূরা আন নিসা, ৪:১৭১)
আমাদের নবীজী(সঃ) তাঁর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, পাছে না আমাদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটে, যা তাদের ক্ষেত্রে ঘটেছে, তাই রাসুল (সঃ) বলেছেন:
“অতিরঞ্জনের ব্যাপারে সাবধান! কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা অতিরঞ্জনের কারণেই ধ্বংস হয়েছিল।” (নাসাঈ)
পঞ্চম কারণ:
মিলাদুন্নবীর এই বিদাত উদযাপন অন্যান্য বিদাতের দ্বারকে উন্মুক্ত করে এবং সুন্নাত থেকে বিমুখ করে দেয়। তাই বিদাতপন্থীদেরকে দেখা যায় বিদাতের ক্ষেত্রে খুব উৎসাহী আর সুন্নাত পালনের ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা; তারা একে ঘৃণা করে এবং সুন্নাতের অনুসারীদেরকে শত্রুজ্ঞান করে, শেষ পর্যন্ত তাদের গোটা ধর্মই পরিণত হয় বাৎসরিক বিদাতী অনুষ্ঠানাদি এবং মিলাদের সমষ্টিতে। এভাবে তারা বিভিন্ন মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে এবং সাহায্যের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে এইসব তথাকথিত বুজুর্গ ব্যক্তিদের ডাকে, তারা ধারণা করে যে এইসব ব্যক্তি উপকার কিংবা ক্ষতি বয়ে আনতে সক্ষম, এমনিভাবে তারা আল্লাহর দ্বীন থেকে সরে গিয়ে জাহেলিয়াতের যুগের লোকেদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
“এবং তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর উপাসনা করে যা তাদের কোন ক্ষতিও করতে পারে না এবং কোন উপকারও করতে পারে না। তারা বলে: এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।” (সূরা ইউনুস, ১০:১৮)
আল্লাহ বলেন “…আর যারা আল্লাহকে ছেড়ে অপরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছে, তারা বলে: আমরা তো এদের উপাসনা করি কেবল এজন্য যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়…” (সূরা আয যুমার, ৩৯:৩)
আল্লাহ সবাইকে হক বুজার তাওফিক দান করুন। ----Omar Bin Aziz
'বার্থ ডে 'পালন:
'বার্থ
ডে 'পালন যদি সভ্যতা হত,তবে নবী মুহামমাদ সাঃ তাঁর বার্থ ডে পালনের আদেশ
সর্বাগ্রে দিতন। কারন,তিনিই প্রকৃত সভ্যতার মূর্ত প্রতীক। এযুগে বার্থ ডে
বা জন্ম দিবস পালন নামে কিছু অযৌক্তিক কুসংস্কার রয়েছে,যা আধুনিক
শিক্ষিত=প্রকৃতপক্ষে ইসলামী আদর্শ সম্পর্কে অশিক্ষিত,মূর্খরা এটাকে
আধুনিকতার প্রকাশ মনেকরে।অথচ সুস্থবিবেক সম্পন্ন সুশিক্ষিত ব্যক্তির জ্ঞান
কখনো তা সমর্থন করেনা। বচ্চা জন্মের পর যেভাবে সবাই আনন্দিত হয়,তেমনি
পরবর্তী জন্ম দিবসে যদি কেবল আনন্দ প্রকাশ করতো, তাহলে হয়ত কিছুবলার ছিলনা।
বরং আনুষ্টানিকভাবে কেক কাটা,গাণ-বাজনা,ছবি-ভিডিও এবং নারী-পুরুষের অবাধ
মাখামাখি তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। এহেন কর্মকাণ্ড কখনো সভ্যতার
মানদণ্ড হতে পারেনা। মুসলমান হিসাবে আমাদের লক্ষ্য করা দরকার, পৃথিবীতে
সর্বশ্রেষ্ট মানুষ মোহাম্মদ (স:) যিনি কেয়ামত পর্যন্ত আগন্তুক সকল মানুষের
জন্য আদর্শ সরূপ, যার জন্ম মানব জাতির জন্য চীর কল্যান বয়ে আনে। আমাদের
জীবন কি উনার চেয়ে মূল্যবান? অথচ উনার জন্ম দিবস প্রচলিত নিয়মে পালনে কোন
প্রমাণ কোরআন-হাদিসে নাই। অবশ্য আল্লহর কাছে উনার জন্মের কৃতজ্ঞতা আদায়ে
রোযা রাখার প্রমাণ আছে। (মিশকাত) চলছে "রবিউল আউয়াল" মাস, যা আমাদের প্রিয়
নবী(স:) এর জন্মের সাক্ষ্য বহন করে। এ মাসকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ
বৃটিস-বেনিয়াদের গোলামী জিইয়ে রাখার জন্য তাদের শেখানো পদ্ধতিতে "ঈদে
মিলাদুন্নবী" নামে একপ্রকার বদ রুসম পালন করে থাকে। এটা শুধু একটা
কুসংস্কারই নয় বরং রাসুলের শানে বেয়দবীরই নামান্তর। তাই আসুন সকল প্রকার
কুসংস্কার পরিহার করে উনার সঠিক আদর্শ মানতে সচেষ্ট হই। -----Salman Farsy
Shafiq
ঈদে মীলাদুন্নবী কি ? মীলাদ উদযাপনকারী ভাইদের সব মিথ্যা ও জাল হাদীছ:
‘জন্মের
সময়কাল’কে আরবীতে ‘মীলাদ’ বা ‘মাওলিদ’ বলা হয়। সে হিসাবে ‘মীলাদুন্নবী’-র
অর্থ দাঁড়ায় ‘নবীর জন্ম মুহূর্ত’। নবীর জন্মের বিবরণ, কিছু ওয়ায ও নবীর
রূহের আগমন কল্পনা করে তার সম্মানে উঠে দাঁড়িয়ে ‘ইয়া নাবী সালামু
আলায়কা’ বলা ও সবশেষে জিলাপী বিতরণ- এই সব মিলিয়ে ‘মীলাদ মাহফিল’ ইসলাম
প্রবর্তিত ‘ঈদুল ফিতর’ ও ‘ঈদুল আযহা’ নামক দু’টি বার্ষিক ঈদ উৎসবের বাইরে
‘ঈদে মীলাদুন্নবী’ নামে তৃতীয় আরেকটি ধর্মীয়(?) অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
উৎপত্তি :
ক্রুসেড বিজেতা মিসরের সুলতান ছালাহুদ্দীন আইয়ূবী (৫৩২-৫৮৯ হিঃ) কর্তৃক নিযুক্ত ইরাকের ‘এরবল’ এলাকার গভর্ণর আবু সাঈদ মুযাফফরুদ্দীন কুকুবুরী (৫৮৬-৬৩০ হিঃ) সর্বপ্রথম কারো মতে ৬০৪ হিঃ ও কারো মতে ৬২৫ হিজরীতে মীলাদের প্রচলন ঘটান রাসূলের মৃত্যুর ৫৯৩ বা ৬১৪ বছর পরে। এই দিন তারা মীলাদুন্নবী উদযাপনের নামে চরম স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত হ’তেন। গভর্ণর নিজে তাতে অংশ নিতেন।[1] আর এই অনুষ্ঠানের সমর্থনে তৎকালীন আলেম সমাজের মধ্যে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন আবুল খাত্ত্বাব ওমর বিন দেহিইয়াহ (৫৪৪-৬৩৩ হিঃ), তিনি মীলাদের সমর্থনে বহু জাল ও বানাওয়াট হাদীছ জমা করেন।
হুকুম :
ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন একটি সুস্পষ্ট বিদ‘আত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের শরী‘আতে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’।[2]
তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করা হ’তে সাবধান থাক। নিশ্চয়ই প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই বিদ‘আত ও প্রত্যেক বিদ‘আতই গোমরাহী’। জাবের (রাঃ) হ’তে অন্য বর্ণনায় এসেছে, وَكُلَّ ضَلاَلَةٍ فِى النَّارِ ‘এবং প্রত্যেক গোমরাহীর পরিণাম জাহান্নাম’।[3]
ইমাম মালেক (রহঃ) স্বীয় ছাত্র ইমাম শাফেঈকে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবীদের সময়ে যে সব বিষয় ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত ছিল না, বর্তমান কালেও তা ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত হবে না। যে ব্যক্তি ধর্মের নামে ইসলামে কোন নতুন প্রথা চালু করল, অতঃপর তাকে ভাল কাজ বা ‘বিদ‘আতে হাসানাহ’ বলে রায় দিল, সে ধারণা করে নিল যে, আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) স্বীয় রিসালাতের দায়িত্ব পালনে খেয়ানত করেছেন’ (আল-ইনছাফ, পৃঃ ৩২)।
মীলাদ বিদ‘আত হওয়ার ব্যাপারে চার মাযহাবের ঐক্যমত :
‘আল-ক্বাওলুল মু‘তামাদ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, চার মাযহাবের সেরা বিদ্বানগণ সর্বসম্মতভাবে প্রচলিত মীলাদ অনুষ্ঠান বিদ‘আত হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তাঁরা বলেন, এরবলের গভর্ণর কুকুবুরী এই বিদ‘আতের হোতা। তিনি তার আমলের আলেমদেরকে মীলাদের পক্ষে মিথ্যা হাদীছ তৈরী করার ও ভিত্তিহীন ক্বিয়াস করার হুকুম জারি করেছিলেন।
উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরাম :
মুজাদ্দিদে আলফে ছানী শায়খ আহমাদ সারহিন্দী, আল্লামা হায়াত সিন্ধী, রশীদ আহমাদ গাংগোহী, আশরাফ আলী থানভী, মাহমূদুল হাসান দেউবন্দী, আহমাদ আলী সাহারানপুরী প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম ছাড়াও আহলেহাদীছ বিদ্বানগণ সকলে এক বাক্যে প্রচলিত মীলাদ অনুষ্ঠানকে বিদ‘আত ও গুনাহের কাজ বলেছেন।
মৃত্যুদিবসে জন্মবার্ষিকী :
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব মতে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সঠিক জন্মদিবস হয় ৯ই রবীউল আউয়াল সোমবার। ১২ রবীউল আউয়াল সোমবার ছিল তাঁর মৃত্যুদিবস। অথচ ১২ রবীউল আউয়াল রাসূলের মৃত্যুদিবসেই তাঁর জন্মবার্ষিকী বা ‘মীলাদুন্নবী’র অনুষ্ঠান করা হচ্ছে।
একটি সাফাই :
মীলাদ উদযাপনকারীরা বলে থাকেন যে, মীলাদ বিদ‘আত হ’লেও তা ‘বিদ‘আতে হাসানাহ’। অতএব জায়েয তো বটেই বরং করলে ছওয়াব আছে। কারণ এর মাধ্যমে মানুষকে কিছু বক্তব্য শুনানো যায়। উত্তরে বলা চলে যে, ছালাত আদায় করার সময় পবিত্র দেহ-পোষাক, স্বচ্ছ নিয়ত সবই থাকা সত্বেও ছালাতের স্থানটি যদি কবরস্থান হয়, তাহ’লে সে ছালাত কবুলযোগ্য হয় না। কারণ এরূপ স্থানে ছালাত আদায় করতে আল্লাহ্র নবী (ছাঃ) নিষেধ করেছেন। রাসূল (ছাঃ)-এর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছালাত আদায়ে কোন ফায়দা হবে না।
তেমনি বিদ‘আতী অনুষ্ঠান করে নেকী অর্জনের স্বপ্ন দেখা অসম্ভব। হাড়ি ভর্তি গো-চেনায় এক কাপ দুধ ঢাললে যেমন পানযোগ্য থাকে না, তেমনি সৎ আমলের মধ্যে সামান্য শিরক-বিদ‘আত সমস্ত আমলকে বরবাদ করে দেয়। সেখানে বিদ‘আতকে ভাল ও মন্দ দুই ভাগে ভাগ করা যে আরেকটি গোমরাহী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ক্বিয়াম প্রথা :
সপ্তম শতাব্দী হিজরীতে মীলাদ প্রথা চালু হওয়ার প্রায় এক শতাব্দীকাল পরে আল্লামা তাক্বিউদ্দীন সুবকী (৬৮৩-৭৫৬ হিঃ) কর্তৃক ক্বিয়াম প্রথার প্রচলন ঘটে বলে কথিত আছে।[4] তবে এর সঠিক তারিখ ও আবিষ্কর্তার নাম জানা যায় না।
এদেশে দু’ধরনের মীলাদ চালু আছে। একটি ক্বিয়ামযুক্ত, অন্যটি ক্বিয়াম বিহীন। ক্বিয়ামকারীদের যুক্তি হ’ল, তারা রাসূলের ‘সম্মানে’ উঠে দাঁড়িয়ে থাকেন। এর দ্বারা তাদের ধারণা যদি এই হয় যে, মীলাদের মাহফিলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর রূহ মুবারক হাযির হয়ে থাকে, তবে এই ধারণা সর্বসম্মতভাবে কুফরী। হানাফী মাযহাবের কিতাব ‘ফাতাওয়া বাযযারিয়া’তে বলা হয়েছে, مَنْ ظَنَّ أنَّ أرواحَ الأمواتِ حاضرةٌ نَعْلَمُ يَكْفُرُ- ‘যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মৃত ব্যক্তিদের রূহ হাযির হয়ে থাকে, সে ব্যক্তি কাফের’।[5] অনুরূপভাবে ‘তুহফাতুল কুযাত’ কেতাবে বলা হয়েছে, ‘যারা ধারণা করে যে, মীলাদের মজলিসগুলিতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর রূহ মুবারক হাযির হয়ে থাকে, তাদের এই ধারণা স্পষ্ট শিরক’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় জীবদ্দশায় তাঁর সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর ধম্কি প্রদান করেছেন।[6] অথচ মৃত্যুর পর তাঁরই কাল্পনিক রূহের সম্মানে দাঁড়ানোর উদ্ভট যুক্তি ধোপে টেকে কি?
মীলাদ অনুষ্ঠানে প্রচারিত বানাওয়াট হাদীছ ও গল্পসমূহ :
(১) ‘(হে মুহাম্মাদ) আপনি না হ’লে আসমান-যমীন কিছু্ সৃষ্টি করতাম না’।[7]
(২) ‘আমি আল্লাহ্র নূর হ’তে সৃষ্ট এবং মুমিনগণ আমার নূর হ’তে’।
(৩) ‘নূরে মুহাম্মাদী’ হ’তেই আরশ-কুরসী, বেহেশত-দোযখ, আসমান-যমীন সব কিছু সৃষ্টি হয়েছে’।
(৪) ‘আদম সৃষ্টির সত্তুর হাযার বছর পূর্বে আল্লাহ পাক তাঁর নূর হ’তে মুহাম্মাদের নূরকে সৃষ্টি করে আরশে মু‘আল্লায় লটকিয়ে রাখেন’।
(৫) ‘আদম সৃষ্টি হয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে জ্যোতির্ময় নক্ষত্ররূপে মুহাম্মাদের নূর অবলোকন করে মুগ্ধ হন’।
(৬) ‘মে‘রাজের সময় আল্লাহ পাক তাঁর নবীকে জুতা সহ আরশে আরোহন করতে বলেন, যাতে আরশের গৌরব বৃদ্ধি পায়’ (নাঊযুবিল্লাহ)।
(৭) রাসূলের জন্মের খবরে খুশী হয়ে আঙ্গুল উঁচু করার কারণে ও সংবাদ দান কারিনী দাসী ছুওয়াইবাকে মুক্ত করার কারণে জাহান্নামে আবু লাহাবের হাতের মধ্যের দু’টি পা আঙ্গুল পুড়বে না। এছাড়াও প্রতি সোমবার রাসূলের (ছাঃ) জন্ম দিবসে জাহান্নামে আবু লাহাবের শাস্তি মওকুফ করা হবে বলে হযরত আববাস (রাঃ)-এর নামে প্রচলিত তাঁর কাফের অবস্থার একটি স্বপ্নের বর্ণনা।
(৮) মা আমেনার প্রসবকালে জান্নাত হ’তে বিবি মরিয়ম, বিবি আছিয়া, মা হাজেরা সকলে দুনিয়ায় নেমে এসে সবার অলক্ষ্যে ধাত্রীর কাজ করেন।
(৯) নবীর জন্ম মুহূর্তে কা‘বার প্রতিমাগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ে, রোমের অগ্নি উপাসকদের ‘শিখা অনির্বাণ’গুলো দপ করে নিভে যায়। বাতাসের গতি, নদীর প্রবাহ, সূর্যের আলো সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় ইত্যাদি...।
উৎপত্তি :
ক্রুসেড বিজেতা মিসরের সুলতান ছালাহুদ্দীন আইয়ূবী (৫৩২-৫৮৯ হিঃ) কর্তৃক নিযুক্ত ইরাকের ‘এরবল’ এলাকার গভর্ণর আবু সাঈদ মুযাফফরুদ্দীন কুকুবুরী (৫৮৬-৬৩০ হিঃ) সর্বপ্রথম কারো মতে ৬০৪ হিঃ ও কারো মতে ৬২৫ হিজরীতে মীলাদের প্রচলন ঘটান রাসূলের মৃত্যুর ৫৯৩ বা ৬১৪ বছর পরে। এই দিন তারা মীলাদুন্নবী উদযাপনের নামে চরম স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত হ’তেন। গভর্ণর নিজে তাতে অংশ নিতেন।[1] আর এই অনুষ্ঠানের সমর্থনে তৎকালীন আলেম সমাজের মধ্যে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন আবুল খাত্ত্বাব ওমর বিন দেহিইয়াহ (৫৪৪-৬৩৩ হিঃ), তিনি মীলাদের সমর্থনে বহু জাল ও বানাওয়াট হাদীছ জমা করেন।
হুকুম :
ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন একটি সুস্পষ্ট বিদ‘আত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের শরী‘আতে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’।[2]
তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করা হ’তে সাবধান থাক। নিশ্চয়ই প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই বিদ‘আত ও প্রত্যেক বিদ‘আতই গোমরাহী’। জাবের (রাঃ) হ’তে অন্য বর্ণনায় এসেছে, وَكُلَّ ضَلاَلَةٍ فِى النَّارِ ‘এবং প্রত্যেক গোমরাহীর পরিণাম জাহান্নাম’।[3]
ইমাম মালেক (রহঃ) স্বীয় ছাত্র ইমাম শাফেঈকে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবীদের সময়ে যে সব বিষয় ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত ছিল না, বর্তমান কালেও তা ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত হবে না। যে ব্যক্তি ধর্মের নামে ইসলামে কোন নতুন প্রথা চালু করল, অতঃপর তাকে ভাল কাজ বা ‘বিদ‘আতে হাসানাহ’ বলে রায় দিল, সে ধারণা করে নিল যে, আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) স্বীয় রিসালাতের দায়িত্ব পালনে খেয়ানত করেছেন’ (আল-ইনছাফ, পৃঃ ৩২)।
মীলাদ বিদ‘আত হওয়ার ব্যাপারে চার মাযহাবের ঐক্যমত :
‘আল-ক্বাওলুল মু‘তামাদ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, চার মাযহাবের সেরা বিদ্বানগণ সর্বসম্মতভাবে প্রচলিত মীলাদ অনুষ্ঠান বিদ‘আত হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তাঁরা বলেন, এরবলের গভর্ণর কুকুবুরী এই বিদ‘আতের হোতা। তিনি তার আমলের আলেমদেরকে মীলাদের পক্ষে মিথ্যা হাদীছ তৈরী করার ও ভিত্তিহীন ক্বিয়াস করার হুকুম জারি করেছিলেন।
উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরাম :
মুজাদ্দিদে আলফে ছানী শায়খ আহমাদ সারহিন্দী, আল্লামা হায়াত সিন্ধী, রশীদ আহমাদ গাংগোহী, আশরাফ আলী থানভী, মাহমূদুল হাসান দেউবন্দী, আহমাদ আলী সাহারানপুরী প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম ছাড়াও আহলেহাদীছ বিদ্বানগণ সকলে এক বাক্যে প্রচলিত মীলাদ অনুষ্ঠানকে বিদ‘আত ও গুনাহের কাজ বলেছেন।
মৃত্যুদিবসে জন্মবার্ষিকী :
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব মতে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সঠিক জন্মদিবস হয় ৯ই রবীউল আউয়াল সোমবার। ১২ রবীউল আউয়াল সোমবার ছিল তাঁর মৃত্যুদিবস। অথচ ১২ রবীউল আউয়াল রাসূলের মৃত্যুদিবসেই তাঁর জন্মবার্ষিকী বা ‘মীলাদুন্নবী’র অনুষ্ঠান করা হচ্ছে।
একটি সাফাই :
মীলাদ উদযাপনকারীরা বলে থাকেন যে, মীলাদ বিদ‘আত হ’লেও তা ‘বিদ‘আতে হাসানাহ’। অতএব জায়েয তো বটেই বরং করলে ছওয়াব আছে। কারণ এর মাধ্যমে মানুষকে কিছু বক্তব্য শুনানো যায়। উত্তরে বলা চলে যে, ছালাত আদায় করার সময় পবিত্র দেহ-পোষাক, স্বচ্ছ নিয়ত সবই থাকা সত্বেও ছালাতের স্থানটি যদি কবরস্থান হয়, তাহ’লে সে ছালাত কবুলযোগ্য হয় না। কারণ এরূপ স্থানে ছালাত আদায় করতে আল্লাহ্র নবী (ছাঃ) নিষেধ করেছেন। রাসূল (ছাঃ)-এর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছালাত আদায়ে কোন ফায়দা হবে না।
তেমনি বিদ‘আতী অনুষ্ঠান করে নেকী অর্জনের স্বপ্ন দেখা অসম্ভব। হাড়ি ভর্তি গো-চেনায় এক কাপ দুধ ঢাললে যেমন পানযোগ্য থাকে না, তেমনি সৎ আমলের মধ্যে সামান্য শিরক-বিদ‘আত সমস্ত আমলকে বরবাদ করে দেয়। সেখানে বিদ‘আতকে ভাল ও মন্দ দুই ভাগে ভাগ করা যে আরেকটি গোমরাহী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ক্বিয়াম প্রথা :
সপ্তম শতাব্দী হিজরীতে মীলাদ প্রথা চালু হওয়ার প্রায় এক শতাব্দীকাল পরে আল্লামা তাক্বিউদ্দীন সুবকী (৬৮৩-৭৫৬ হিঃ) কর্তৃক ক্বিয়াম প্রথার প্রচলন ঘটে বলে কথিত আছে।[4] তবে এর সঠিক তারিখ ও আবিষ্কর্তার নাম জানা যায় না।
এদেশে দু’ধরনের মীলাদ চালু আছে। একটি ক্বিয়ামযুক্ত, অন্যটি ক্বিয়াম বিহীন। ক্বিয়ামকারীদের যুক্তি হ’ল, তারা রাসূলের ‘সম্মানে’ উঠে দাঁড়িয়ে থাকেন। এর দ্বারা তাদের ধারণা যদি এই হয় যে, মীলাদের মাহফিলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর রূহ মুবারক হাযির হয়ে থাকে, তবে এই ধারণা সর্বসম্মতভাবে কুফরী। হানাফী মাযহাবের কিতাব ‘ফাতাওয়া বাযযারিয়া’তে বলা হয়েছে, مَنْ ظَنَّ أنَّ أرواحَ الأمواتِ حاضرةٌ نَعْلَمُ يَكْفُرُ- ‘যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মৃত ব্যক্তিদের রূহ হাযির হয়ে থাকে, সে ব্যক্তি কাফের’।[5] অনুরূপভাবে ‘তুহফাতুল কুযাত’ কেতাবে বলা হয়েছে, ‘যারা ধারণা করে যে, মীলাদের মজলিসগুলিতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর রূহ মুবারক হাযির হয়ে থাকে, তাদের এই ধারণা স্পষ্ট শিরক’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় জীবদ্দশায় তাঁর সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর ধম্কি প্রদান করেছেন।[6] অথচ মৃত্যুর পর তাঁরই কাল্পনিক রূহের সম্মানে দাঁড়ানোর উদ্ভট যুক্তি ধোপে টেকে কি?
মীলাদ অনুষ্ঠানে প্রচারিত বানাওয়াট হাদীছ ও গল্পসমূহ :
(১) ‘(হে মুহাম্মাদ) আপনি না হ’লে আসমান-যমীন কিছু্ সৃষ্টি করতাম না’।[7]
(২) ‘আমি আল্লাহ্র নূর হ’তে সৃষ্ট এবং মুমিনগণ আমার নূর হ’তে’।
(৩) ‘নূরে মুহাম্মাদী’ হ’তেই আরশ-কুরসী, বেহেশত-দোযখ, আসমান-যমীন সব কিছু সৃষ্টি হয়েছে’।
(৪) ‘আদম সৃষ্টির সত্তুর হাযার বছর পূর্বে আল্লাহ পাক তাঁর নূর হ’তে মুহাম্মাদের নূরকে সৃষ্টি করে আরশে মু‘আল্লায় লটকিয়ে রাখেন’।
(৫) ‘আদম সৃষ্টি হয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে জ্যোতির্ময় নক্ষত্ররূপে মুহাম্মাদের নূর অবলোকন করে মুগ্ধ হন’।
(৬) ‘মে‘রাজের সময় আল্লাহ পাক তাঁর নবীকে জুতা সহ আরশে আরোহন করতে বলেন, যাতে আরশের গৌরব বৃদ্ধি পায়’ (নাঊযুবিল্লাহ)।
(৭) রাসূলের জন্মের খবরে খুশী হয়ে আঙ্গুল উঁচু করার কারণে ও সংবাদ দান কারিনী দাসী ছুওয়াইবাকে মুক্ত করার কারণে জাহান্নামে আবু লাহাবের হাতের মধ্যের দু’টি পা আঙ্গুল পুড়বে না। এছাড়াও প্রতি সোমবার রাসূলের (ছাঃ) জন্ম দিবসে জাহান্নামে আবু লাহাবের শাস্তি মওকুফ করা হবে বলে হযরত আববাস (রাঃ)-এর নামে প্রচলিত তাঁর কাফের অবস্থার একটি স্বপ্নের বর্ণনা।
(৮) মা আমেনার প্রসবকালে জান্নাত হ’তে বিবি মরিয়ম, বিবি আছিয়া, মা হাজেরা সকলে দুনিয়ায় নেমে এসে সবার অলক্ষ্যে ধাত্রীর কাজ করেন।
(৯) নবীর জন্ম মুহূর্তে কা‘বার প্রতিমাগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ে, রোমের অগ্নি উপাসকদের ‘শিখা অনির্বাণ’গুলো দপ করে নিভে যায়। বাতাসের গতি, নদীর প্রবাহ, সূর্যের আলো সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় ইত্যাদি...।
----সংকলকঃ রাফিয়া বেগম
ইসলামকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ জীবন বেবস্থা কর:
এই বার ঈদে মিলাদুন্নবী আর লোকাল ভাবে বা ধর্মীয় দৃষ্টি কোন থেকে উদযাপিত হবেন, বরং রাষ্ট্রীয় ভাবে এবং রাজনৈতিক ভাবে উদযাপিত হবে..কারন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এটাই বলে...হে মুসলিমেরা যদি তোমরা সত্যিই ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করো আললাহর রাসুল মোহাম্মদ সাঃ এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন ও নবী পরিবারের উপর যে জুলুম করেছিল তৎকালীন জালেম শাসক তার জন্য. তাহলে, ,আজকে যে জুলুম ,হত্যা, লুটপাট করছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমেরিকা ভারত ও তার দালাল তাবেদার, শেখ মীরজাফর হাসিনা, খালেদা এরশাদ সহ শাসক গুলো তাহলে তার পরতিবাদের কেন আপনার চুপ করে বসে আছে.মনে করে দেখেন ইমাম হোসেন ঘর থেকে বের হয়ে ছিলেন জালিম কে অপসারণ করার জন্য, মুসলিম উম্মাহ কে জুলুম থেকে মুক্ত করার জন্য. আর আমরা মিলাদুন্নবী উদযাপন করি এই জন্য যে রাস্তায় কিছু উৎসব করে ঘরে চলে যাওয়ার জন্য.মনে রাখবেন আমরা যদি এইটা করে থাকি তাহলে আমরা ইমাম হোসাইন সহ নবী পরিবারে সেই দিন শহীদ হওয়া শহীদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করলাম ..কারন আমরা জানি ওনার জীবন আললাহর জন্য দিয়েছেন জালেম কে অপসারণ করার জন্য,আর আমরা কি করছি..
হে খালেদ বিন ওয়ালীদের ভাইয়ের,নিষ্ঠাবান সেনাঅফিসারে, যে খালেদ সাইফুল্লাহ. সাদ ইবনে মুয়ায,হযরত ইমাম হোসাইন, যে আললাহর, রাসুল, কিতাবের উপর ঈমান এনেছিলেন,আপনারাও একই আললাহর, রাসুল, কিতাবের উপর ঈমান এনেছে. তাহলে আপনাদের পূবপুরুষদের মানে যদি একজন মুসলিম কোন ভাবে জুলুমের শিকার হইতো, তাহলে ওনারা আললাহর ভয়ে থরথর করে ভয়ে কাপতেন এবং সাথে সাথে সেই জালেমের বিরুদ্ধে খোলা তরবারি নিয়ে জমদুতের মত হাজির হতো এবং তার সঠিক পাওয়ানা বুঝিয়ে দিত.কিন্তু আজকে যখন আপানদের সামনে পিলখানায় 57 জন সেনা অফিসার কে ভারতীয় মদদে এই এই খুনি জালিম হাসিনা হত্যা করলো,সীমান্তে ফেলানী কে মেরে কাটাতাঁরে লাশ ঝুলিয়ে রাখে,নিরবাচন নামে নাটকের মাধমে শত শত মানুষ কে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারে, তখন আপনার এইগুলো দেখেও চুপ করে বসে থাকেন কি ভাবে??? আপনার কেন এই হারাম গনতান্ত্রিক বেবস্থা ও এর দালাল শাসক গুলো ধুলাবালি সাথে মিশিয়ে দিচ্ছেন না...একবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একমাত্র আললাহর কে ভয় করে ইসলামকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ জীবন বেবস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাস্তায় বের হয়ে আসুন এবং খিলাফত পতিষ্ঠা করুন .....Moon Tanvir
(ক) রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
« مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ »
“যে ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্যতা গ্রহণ করবে সে তাদের অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য হবে।”
(খ) আজানের প্রচলনের সময় কেউ কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে প্রস্তাব করলেন যে সালাতের সময় হলে আগুন জ্বালানো যেতে পারে। কেউ প্রস্তাব করলেন ঘণ্টা ধ্বনী করা যেতে পারে। কেউ বললেন বাঁশী বাজানো যেতে পারে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। বললেন, আগুন জ্বালানো হল অগ্নিপুজারী পারসিকদের রীতি। ঘণ্টা বাজানো খৃষ্টানদের ও বাঁশী বাজানো ইহুদীদের রীতি।
(গ) মদীনার ইহুদীরা আশুরার দিনে একটি রোযা পালন করত। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুটি রোযা রাখতে নির্দেশ দিলেন,যাতে তাদের সাথে সাদৃশ্যতা না হয়।
(ঘ) হিজরী সনের প্রবর্তনের সময় অনেকে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিন থেকে সন গণনার প্রস্তাব করেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়,খৃষ্টানদের অনুকরণ হওয়ার কারণে।
ইসলামে ঈদ কয়টি? ইসলামে ঈদ হল দুটি। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।
(খ) আজানের প্রচলনের সময় কেউ কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে প্রস্তাব করলেন যে সালাতের সময় হলে আগুন জ্বালানো যেতে পারে। কেউ প্রস্তাব করলেন ঘণ্টা ধ্বনী করা যেতে পারে। কেউ বললেন বাঁশী বাজানো যেতে পারে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। বললেন, আগুন জ্বালানো হল অগ্নিপুজারী পারসিকদের রীতি। ঘণ্টা বাজানো খৃষ্টানদের ও বাঁশী বাজানো ইহুদীদের রীতি।
(গ) মদীনার ইহুদীরা আশুরার দিনে একটি রোযা পালন করত। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুটি রোযা রাখতে নির্দেশ দিলেন,যাতে তাদের সাথে সাদৃশ্যতা না হয়।
(ঘ) হিজরী সনের প্রবর্তনের সময় অনেকে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিন থেকে সন গণনার প্রস্তাব করেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়,খৃষ্টানদের অনুকরণ হওয়ার কারণে।
ইসলামে ঈদ কয়টি? ইসলামে ঈদ হল দুটি। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ
-صلى الله عليه وسلم- الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ
فِيهِمَا فَقَالَ « مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ ». قَالُوا كُنَّا نَلْعَبُ
فِيهِمَا فِى الْجَاهِلِيَّةِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه
وسلم- « إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ
الأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ » رواه أبو داود
সাহাবী আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত
তিনি বলেন,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় আসলেন তখন
দেখলেন বছরের দুটি দিনে মদীনাবাসীরা আনন্দ-ফুর্তি করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন
এ দিন দুটো কি? তারা বলল যে আমরা ইসলামপূর্ব মুর্খতার যুগে এ দু দিন
আনন্দ-ফুর্তি করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ
“আল্লাহ তাআলা এ দু’দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটো দিন তোমাদের
দিয়েছেন। তা হল ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর। ( আবু দাউদ)
প্রশংসাও ভালবাসার দাবি কি কোন কল্যাণে আসবে?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
« َإِنِّى فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ
وَأُكَاثِرُ بِكُمُ الأُمَمَ فَلاَ تُسَوِّدُوا وَجْهِى أَلاَ وَإِنِّى
مُسْتَنْقِذٌ أُنَاسًا وَمُسْتَنْقَذٌ مِنِّى أُنَاسٌ فَأَقُولُ يَا رَبِّ
أُصَيْحَابِى. فَيَقُولُ إِنَّكَ لاَ تَدْرِى مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ ».
(رواه ابن ماجه، وصححه الألباني في صحيح سنن ابن ماجه
“শুনে রাখো! হাউজে কাউছারের কাছে তোমাদের
সাথে আমার দেখা হবে। তোমাদের সংখ্যার আধিক্য নিয়ে আমি গর্ব করব। সেই দিন
তোমরা আমার চেহারা মলিন করে দিওনা। জেনে রাখো! আমি সেদিন অনেক মানুষকে
জাহান্নাম থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চালাব। কিন্তু তাদের অনেককে আমার থেকে
দূরে সরিয়ে নেয়া হবে। আমি বলব: হে আমার প্রতিপালক! তারা তো আমার প্রিয়
সাথী-সংগী, আমার অনুসারী। কেন তাদের দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে? তিনি উত্তর
দেবেন: আপনি জানেন না,আপনার চলে আসার পর তারা ধর্মের মধ্যে কি কি নতুন
বিষয় আবিস্কার করেছে। (ইবনে মাজাহ)
অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসতে হবে। তার জন্য বেশী বেশী করে দরূদ ও সালাম পেশ করতে হবে। তার প্রশংসা করতে হবে। সর্বোপরি তাঁর সকল আদর্শ ও সুন্নাতের অনুসরণ অনুকরণ করতে হবে। কিন্তু এগুলো করতে যেয়ে তিনি যা নিষেধ করেছেন আমরা যেন তার মধ্যে পতিত না হই।
অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসতে হবে। তার জন্য বেশী বেশী করে দরূদ ও সালাম পেশ করতে হবে। তার প্রশংসা করতে হবে। সর্বোপরি তাঁর সকল আদর্শ ও সুন্নাতের অনুসরণ অনুকরণ করতে হবে। কিন্তু এগুলো করতে যেয়ে তিনি যা নিষেধ করেছেন আমরা যেন তার মধ্যে পতিত না হই।
ঈদে
মীলাদের ব্যাপারে তাদের অনেকে বলেন ঈদে মীলাদ বা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিন পালন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হাদীসটি হল:
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ
اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ ، { أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ ، فَقَالَ :
يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ
يَوْمِ عَاشُورَاءَ ، فَقَالَ : يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَسُئِلَ
عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الِاثْنَيْنِ ، فَقَالَ : ذَلِكَ يَوْمٌ وُلِدْت فِيهِ
، وَبُعِثْت فِيهِ وَأُنْزِلَ عَلَيَّ فِيهِ } رَوَاهُ مُسْلِمٌ
সাহাবী আবু কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত যে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সোমবারে রোযা রাখার বিষয়ে
জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, “এ দিনে আমার জন্ম হয়েছে এবং এ দিনে আমাকে
নবুওয়াত দেয়া হয়েছে বা আমার উপর কুরআন নাযিল শুরু হয়েছে।” (বর্ণনায় :
মুসলিম)
তারা এ হাদীস পেশ করে বলতে চান যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসোমবার দিনে জন্ম গ্রহণ করেছেন বলে ঐ দিনে রোযা পালন করে তা উদযাপন করাকে সুন্নাত করেছেন। তাই জন্মদিন পালন এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। জওয়াব:
তারা এ হাদীস পেশ করে বলতে চান যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসোমবার দিনে জন্ম গ্রহণ করেছেন বলে ঐ দিনে রোযা পালন করে তা উদযাপন করাকে সুন্নাত করেছেন। তাই জন্মদিন পালন এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। জওয়াব:
- এক. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু জন্ম দিনের কারণে সোমবার রোযা রাখতে বলেননি। বরং বৃহস্পতিবারও রোযা রাখাকে সুন্নাত করেছেন। সেটা তাঁর জন্মদিন নয়। হাদীসে এসেছে:
« تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ
وَالْخَمِيسِ فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِى وَأَنَا صَائِمٌ » رواه
الترمذي رواه مسلم بغير ذكر الصوم
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“সোমবার ও বৃহস্পতিবার
বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। কাজেই আমি পছন্দ করি যখন আমার
আমল পেশ করা হবে তখন আমি রোযাদার থাকব।” (বর্ণনায়: মুসলিম ও তিরমীজি)
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝে আসে। তা হল:
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝে আসে। তা হল:
- দুই. যদি জন্মদিবসের কারণে রোযা রাখার বিধান হত তাহলে শুধু সোমবারে রোজা রাখা সুন্নাত হত। কিন্তু তা হয়নি, বরং বৃহস্পতিবার ও সোমবার সপ্তাহে দুদিন রোযা রাখাকে সুন্নাত করা হয়েছে। তাই এ রোযার কারণ শুধু জন্ম দিবস নয়।
- তিন. এ দু দিনে রোযা সুন্নাত হওয়ার কারণ হল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমল পেশ হওয়া।
- চার. সোমবারের ফজীলত দু কারণে। জন্মদিন ও নবুওয়াত প্রাপ্তি বা কুরআন নাযিল। শুধু জন্ম দিন হিসেবে নয়।
- পাঁচ. রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্মদিন সোমবারে ঈদ পালন করতে বলেননি বরং ঈদের বিরোধীতা করে রোযা রাখতে বলেছেন।
- ছয়. রোযা হল ঈদের বিপরীত। রোযা রাখলে সে দিন ঈদ করা যায় না, ঈদ ও রোযা কোন দিন এক তারিখে হয় না। হাদীসের দাবি হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিনে রোযা রাখা। কিন্তুরোযা না রেখে তার বিপরীতে পালন করার পেছনে কি যুক্তি থাকতে পারে?
- সাত. তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেয়া যায় যে এ হাদীসটিতে রাসূলের জন্মদিন পালনের ইঙ্গিত রয়েছে। তাহলে হাদীস অনুযায়ী প্রতি সোমবার কেন ঈদ পালন করা হচ্ছে না? সোমবারেও নয় বরং ঈদ পালন করা হচ্ছে বছরে একবার রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে। সে দিন সোমবার না হলেও পালিত হয়। এ হাদীসে কি ১২ই রবিউল আউয়ালে জন্মদিন পালন করতে বলা হয়েছে?
- আট. যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেয়া হয় উল্লেখিত হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিন পালন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে তা হলে আমি বলব হ্যাঁ, হাদীসটিতে জন্মদিবস কিভাবে পালন করতে হবে তাও বলে দেয়া হয়েছে। তা হল ঐ দিনে রোযা রাখা। কিন্তু ঐ দিনে রোযা না রেখে বেশী খাওয়া দাওয়া করা হয়। ঈদ নাম দিয়ে রোযা রাখার বিরোধিতা করা হয়। তা হলে তাদের কাছে রোযা রাখার সুন্নাতের চেয়ে খাওয়া-দাওয়া বেশী প্রিয়? মনে রাখা উচিত প্রেম মুহাব্বাতের সত্যিকার প্রমাণ হল ত্যাগ ও কুরবানী করা, উপোস থাকা, কষ্ট স্বীকার করা। খাওয়া-দাওয়া ও আমোদ-ফুর্তি নয়। মুখে নবী প্রেমের দাবি ও কাজ-কর্মে তার আদর্শের বিরোধিতা করার নাম কখনো মুহাব্বাত হতে পারে না। বরং বলা চলে ধোকাবাজি।
For More Visit The Link
http://salafibd.wordpress.com/2014/01/09/eid-milad/
আফছোছ আজ ইহুদীআলেমদের ন্যায় একদল আলেম তৈরী হয়েছে যারা টাকার লোভে মনে যা চায় তা বলে, সমাজে বেদাত চালু করে, ওয়াজে অমুক কাফের তমুক কাফের বলে ফতোয়া দেয়। অথচ সে যে কুফুরী কাজ করতেছে তা ঢের পায়না...

